অস্ত্র ও অর্থ পাচারের দুই মামলার পর মাদক মামলাতেও জামিন পেয়েছেন ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। গতকাল সোমবার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তেহসিন ইফতেখার রমনা থানার মাদক আইনের মামলায় শুনানি শেষে সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের আরেকটি মামলায় জামিন হলেই বহিষ্কৃত এই যুবলীগ নেতার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকবে না বলে ভাষ্য তার আইনজীবীর।
এর আগে গত রবিবার অর্থ পাচার ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের আলাদা দুটি মামলায় জামিন পান ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। ঢাকার আলাদা দুটি আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করে।
গতকাল সম্রাটের পক্ষে জামিন শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মাহবুবুর রহমান জামিনের বিরোধিতা করেন।
মাদক মামলায় সম্রাটের জামিন আদেশের পর আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্রাটের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত চারটি মামলা হয়েছে। গতকাল (রবিবার) অস্ত্র ও অর্থ পাচার মামলায় জামিন হয়েছে। আজ (গতকাল সোমবার) মাদক মামলাতেও পেলেন। আর একটি মামলা আছে দুদকের। ওই মামলায় জামিন পেলে তিনি কারামুক্ত হতে পারবেন। আশা করছি শিগগিরই জামিন নিয়ে তিনি কারামুক্ত হবেন।’
২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র্যাবের অভিযানের পর অবৈধ ক্যাসিনো কারবারের বিষয়টি জানাজানি হলে আত্মগোপন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। পরে ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ওইদিন বিকেলে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অভিযান শেষে সেখান থেকে গুলিসহ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ইয়াবা, বিদেশি মদ, ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং নির্যাতন করার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানান র্যাব কর্মকর্তারা।
ক্যাঙ্গারুর চামড়া রাখার অভিযোগে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া রাজধানীর রমনা থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। রমনা থানার অস্ত্র মামলায় ওই বছরের ৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করে দুদক। অর্থ পাচারের মামলাটি হয় ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। আর ৯ ডিসেম্বর মাদক মামলায় সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় র্যাব।
