মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের, তাকে গ্রেপ্তার ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
শুক্রবার সকাল ১১টায় মুন্সিগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও সন্ত্রাস প্রতিহতকরণে সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয় শীর্ষক মত বিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মেলনের সভাপতি সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, ম্যাজিস্ট্রেট যদি মামলাটি আমলে না নিতেন তাহলে শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল গ্রেপ্তার হতেন না। যেখানে দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারায় মামলাটি গ্রহণযোগ্য না। আমি চাইবো, হাইকোর্ট বিভাগ যেন ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেন এবং তার কাছে ব্যাখ্যা চান।
তিনি আরও বলেন, ২৯৫ ধারায় কীভাবে মামলা হলো মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে সেই জবাব দিতে হবে। তিনি কীভাবে এ ধরনের এজাহার গ্রহণ করলেন। পুলিশের উপপরিদর্শকদের দায়বদ্ধতার মধ্যে আনতে হবে।
বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, বিভাগীয় তদন্তের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। এ সম্পর্কিত সব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা দরকার। এ বিষয়ে রিট করা হবে বলেও জানান তিনি।
১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর কমিটির সভাপতি মুনতাসির মামুন বলেন, জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে বেশ কিছু ঘটনা ঘটছে। সে জন্য হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের সচেতনভাবে সতর্ক থাকতে হবে। সব সময় ফেসবুকে মন্তব্য দেওয়া যাবে না। নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি রক্ষা কমিটি করারও প্রস্তাব রাখেন তিনি।
নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, উপযুক্ত বিচার না হলে শিক্ষার পরিবেশ থাকবে না। তার কর্মস্থলে, বাসায় যেন আর অনাকাঙ্ক্ষিত না ঘটে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি এ এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি। সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমি মর্মাহত, ব্যথিত, লজ্জিত ও ক্ষুদ্ধ।
মত বিনিময় সভা থেকে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ৫ দফা দাবি জানায়। এগুলো হলো— অবিলম্বে মুন্সিগঞ্জের হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রসরাজ দাস ও সুনামগঞ্জের ঝুমন দাসসহ সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রমূলক সব মামলা প্রত্যাহার; ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন; শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ; সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার প্রদান ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সাম্প্রদায়িক বৈষম্য, বিদ্বেষ, সন্ত্রাস মোকাবিলায় বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে এবং ওয়াজের নামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের যে কোনো স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহিত করার জন্য ইতোপূর্বে চিহ্নিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
