বিদেশে শিপিং ব্যবসা শুরু করছে সাইফ পাওয়ারটেক

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০৬:১৬ এএম

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য সুবিধা ও জাহাজীকরণ সংক্রান্ত চুক্তি করেছে দুবাইভিত্তিক এডি পোর্টস গ্রুপ ফিডার সার্ভিস শাফিন ফিডার্স। গতকাল শনিবার বাহরাইনভিত্তিক নিউজ এজেন্সি ট্রেড আরাবিয়ার এক সংবাদে এ তথ্য জানানো হয়। সাইফ পাওয়ারটেক বাংলাদেশে বন্দর, লজিস্টিকস, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিদ্যুৎ খাতের তালিকাভুক্ত সক্রিয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ বছরে আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর  থেকে বাংলাদেশে ট্রেড ও কার্গো সেবা দেওয়ার জন্য সাইফ পাওয়ারটেক ও শাফিন ফিডার্স একসঙ্গে কাজ করবে। এই যৌথ ব্যবসার অংশ হিসেবে শাফিন ফিডার্স সাইফ পাওয়ারটেককে ৫৫ হাজার ডিডব্লিউটি সমৃদ্ধ (ডেডওয়েট টন) ৮টি সুপারম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার সরবরাহ করবে। এর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে পণ্য পরিবহনে সাধারণ কার্গো ও ড্রাই বাল্ক কার্গো সরবরাহ করবে শাফিন ফিডার্স। এই কার্গোগুলো ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে পণ্য সরবরাহ সেবাও দিচ্ছে।

এডি পোর্টস গ্রুপের মেরিটাইম ক্লাস্টার সিইও ক্যাপ্টেন মাকতুম আল হাক্কানী বলেন, আমাদের এ ধরনের যৌথ অপারেশনের মূল লক্ষ্য হলো সাইফ পাওয়ারটেকের মতো অন্যান্য গ্রাহককেও স্বল্প খরচে ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার সেবা দেওয়া। এতে গ্রাহকদের বাণিজ্য খরচও কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশ বা অঞ্চলে নির্মাণসামগ্রীর মতো পণ্যগুলো দুবাই থেকে নিয়ে নিজেদের দেশে বা অঞ্চলে বিক্রি করার জন্য শাফিন ফিডার্স খুবই দক্ষ এবং আধুনিক সব সুবিধা দিতে বদ্ধপরিকর।

শাফিন ফিডার্সের সিইও এবং এডি পোর্টস গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত পোর্ট অপারেটিং কোম্পানি সিইও ক্যাপ্টেন আম্মার মুবারাক আল শাইবা বলেন, এই চুক্তি কেবল বাংলাদেশ এবং দুবাইয়ের মধ্যে বাণিজ্যের ইঙ্গিত করে না, বরং দুটি জাতি ও তাদের বন্দরের মধ্যকার বাণিজ্য বৃদ্ধির নতুন দুয়ার খুলে দেওয়ার নিদর্শন বহন করে।

পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সাইফ পাওয়ারটেক ও শাফিন ফিডার্সের এই চুক্তি বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করেন আল শাইবা।

সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন বলেন, আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই বাংলাদেশের ড্রাই কার্গো সেবাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যে দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে শাফিন ফিডার্সের এই অংশীদারিত্বমূলক চুক্তি।

প্রতিষ্ঠান দুটির যৌথ পরিচালনায় কেবল পণ্য পরিবহনই নয়, বন্দরে জেটি সুবিধার পাশাপাশি ওয়্যারহাউজের সুবিধাও বাড়াবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও দুবাইয়ের মধ্যে মেরিটাইম অবকাঠামো ও প্রকল্প উন্নয়নে বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করবে বলেও আশা করছেন তিনি।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ব্যবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরও সহজে এবং কম খরচে পণ্য আমদানি করা যাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাইফ পাওয়ারটেক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানায়  যে, তারা জাহাজ পরিচালনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাফিন ফিডার্স কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্দেশ্যে সাইফ পাওয়ারটেক সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাইফ ইউনাইটেড শিপিং অ্যান্ড  ট্রেডিং নামে একটি সহযোগী কোম্পানি চালু করেছে। প্রতিটি জাহাজ থেকে সাইফ পাওয়ারটেকের বছরে ১৫৪ কোটি টাকা আয় এবং ১৫ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা মুনাফা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৫৮ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডেল করে দেশের একমাত্র টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক। কোম্পানিটি মোংলা ও পানগাঁও বন্দরেও কনটেইনার হ্যান্ডেল করে। সাইফ পাওয়ারটেক লজিস্টিকস এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং স্বয়ংচালিত বা গাড়ির ব্যাটারির সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি কোম্পানিটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, লজিস্টিকস ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অটোমোটিভ বা গাড়ির ব্যাটারির ব্যবসাও করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত