সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু, কলেজছাত্র, নারীসহ অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইলে পৃথক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তিনজন। তাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরা এক নারী। ঢাকার সাভারে পৃথক ট্রাকচাপায় প্রাণ গেছে আরও দুজনের। এ ছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈর, নীলফামারীর জলঢাকা দুজন মারা গেছেন। এছাড়া রাজধানীতে নিহত হয়েছেন আরও দুজন।
দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত:
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, আমেরিকায় এক ছেলের বাসায় কিছুদিন থেকে দেশে ফিরলেও বাড়ি ফেরা হলো না রেজিয়া সুলতানার (৬৪)। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাসের অদূরে কুমারজানি নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ওই নারী। রেজিয়া সুলতানা নাটোর জেলা সদরের কান্দিভিটা গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, আমেরিকা থেকে শনিবার রেজিয়া সুলতানা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখানে তার ছেলে শামসুল আরেফিন তাকে আনতে যান। তারা একটি মাইক্রোবাসযোগে নাটোরের উদ্দেশে রওনা হন। রাতে মহাসড়কের ওই স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ি তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই রেজিয়া বেগম মারা যান। এ ঘটনায় তার ছেলে শামসুল আরেফিন আহত হন। আহত শামসুল আরেফিন জানান, কয়েক মাস আগে তার মা আমেরিকা থাকা তার ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে যান। শনিবার তিনি দেশে ফিরে আসেন।
মির্জাপুরে আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় সোলায়মান (১৮) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) বাইমহাটী যমুনা ক্লিনিকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোলায়মান উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের তরফপুর গ্রামের শওকত হোসেনের ছেলে। তিনি মির্জাপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
এদিকে একই জেলার কালিহাতীতে ট্রাকচাপায় রেজাউল (২৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই মোটরসাইকেল আরোহী। নিহত রেজাউল ভূঞাপুর উপজেলার মেঘার পটল গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হবুয়ারচালা এলাকায় রবিবার সকালে ট্রাকের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত আরিফুল ইসলাম (৩৫) গাজীপুরের শ্রীপুর থানার পেলাইদ গ্রামের রাজে আলীর ছেলে। এ ঘটনার পর ট্রাকসহ চালককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
সাভারে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। রবিবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজার সামনে ও আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনা ঘটে।
সাভার হাইওয়ে থানার পরিদর্শক আতিকুর রহমান জানান, পাকিজার সামনে নিহত মেহেদী হাসান পারভেজ (৩৮) সাভারের রাজাশন এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে জামগড়া এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন রাসেল শেখ (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার রাইজকান্দী গ্রামের মৃত মান্নান শেখের ছেলে।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় রাস্তা পারাপারের সময় মাইক্রোবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারুফ হাসান (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ভাটা এলাকা নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে। নিহত মারুফ ওই উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের দক্ষিণ দেশিবাই গ্রামের দুলাল রহমানের ছেলে।
রাজধানীতে নিহত ২ : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মহাখালীতে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
যাত্রাবাড়ী হাসেম রোডে মিনি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় আব্দুর রহিম (১৮) নামে এক যুবক নিহত হন। হাসেম রোড বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন রাস্তায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আব্দুর রহিমের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার চালতাতলা গ্রামে। তার বাবার নাম নিজাম কাজি। তিনি দুলাভাই ফয়সালের সঙ্গে যাত্রাবাড়ী কাজলা এলাকায় থাকতেন। হাসেম রোডে মোল্লা গ্লাস হাউজ নামের ফয়সালের দোকানে কাজ করতেন তিনি।
ফয়সাল জানান, ইফতারের কিছু আগে দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি মিনি কাভার্ড ভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়েছে। তবে এর চালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
রাজধানীর মহাখালী আমতলীতে বাসের ধাক্কায় বিলকিস আক্তার (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাসটি জব্দ করলেও পালিয়েছে এর চালক।
দুর্ঘটনার পর বিলকিসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত সোয়া ৮টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেছার উদ্দিন জানান, মহাখালী আমতলা মেইন রাস্তায় একটি স্টাফ বাসের ধাক্কায় আহত হন বিলকিস আক্তার। তিনি আরও জানান, বিলকিস আক্তার গ্রাম থেকে ঢাকায় কোনো আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ময়মনসিংহ ভালুকা উপজেলার বদ্দা গ্রামের আদম আলীর স্ত্রী বিলকিস।
