হাওরের পানি কৃষকের কান্না

হবিগঞ্জে পানির নিচে ৬৫ হেক্টর জমি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২২, ০৬:৪৭ এএম

খরা, উন্নত জাতের বীজের অভাব, পোকার আক্রমণে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফলসহানির আশঙ্কা করছেন হবিগঞ্জের কৃষকরা। ইতিমধ্যে জেলার লাখাই উপজেলার ৬৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া পার্শ¦বর্তী সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জে আগাম বন্যায় বোরো ফসল নষ্ট হওয়ায় খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে হবিগঞ্জ জেলার কৃষকদের মধ্যেও। পাশাপাশি বাদামি গাছ ফড়িংয়ের উপদ্রবে ফসলহানির আশঙ্কা তাদের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাষ্য, এবার জেলায় আগাম বন্যার ঝুঁকি নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছ। চাষাবাদকৃত জমিতে ৫ লাখ ২২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, গত ৪ এপ্রিল থেকে জেলার হাওর এলাকায় বেরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। মৌসুম শুরু হলেও বিস্তীর্ণ এলাকায় ধান পরিপক্ব না হওয়ায় পুরোদমে ফসল কাটা শুরু হয়নি। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত হাওর এলাকার মাত্র ৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমির ফসল কাটা হয়েছে। এই অবস্থায় হুট করে পানি বাড়তে শুরু করায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। 

শিবপুর গ্রামের কৃষক মোবারক মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ জমিতে পানি প্রবেশ করায় কাঁচা ও আধা পাকা ধান কাটছি। একদিকে ধানকাটা শ্রমিকের অভাব। অপরদিকে রোজা রেখে অনেকেই ধান কাটতে চান না। ছেলেমেয়ে নিয়া এবার কী যে খাইমু চিন্তায় আসে না।’

একই গ্রামের আবু তাহের বলেন, এবার ১৬ কানি জমি চাষাবাদ করেছিলাম। ১৫ কানি জমিই পানিতে ডুবে গেছে। ১ হাজার টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছি না।  

লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকিল খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধলেশ্বরী ও সুতাং নদীতে পানি বাড়ছে গত দুদিন ধরে। সোমবার পর্যন্ত লাখাই সদর ও বামই ইউনিয়নের শিবপুর, স্বজনগ্রাম নোয়াগাঁও এলাকায় প্রায় ৬৫ হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উজানে পানি বাড়তে থাকলে উপজেলার হাওর এলাকায় বোরো ফসল ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

তিনি জানান, এই উপজেলায় ১১ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির ফসল কাটা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলা বাদে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। লাখাইয়ে মূলত নদীর বাঁধের বাইরে চাষাবাদ করা জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

বানিয়াচঙ্গ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মসেন সিনহা ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা সালেহা সুমি দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত কোথাও হাওরে বন্যার পানি প্রবেশের খবর পাওয়া যায়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এবং কিছুটা বৃষ্টিপাত হওয়ায় জেলায় বোরো ধানের আশাব্যঞ্জক ফলন হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনামূলক ভর্তুকি মূল্যে কৃষি সরঞ্জাম বিক্রি, বীজ, সার সহায়তা প্রদান করায় তা বোরো ধান চাষের সহায়ক হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোরো এলাকা খ্যাত বানিয়াচং আজমিরিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ব্রাউনপ্লান হপার (বাদামি গাছ ফড়িং) নামে এ ধরনের পোকার আক্রমণ ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য কৃষকরা নির্বিচারে কীটনাশক ছিটিয়ে দিচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত