হাওরাঞ্চল থেকে নৌপথে কিশোরগঞ্জের নদীবন্দর ভৈরবে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ধান আসছে। তবে আগাম পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির এইসব আধাপাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও স্থানীয় আড়তদাররা। ক্রেতাহীন মোকামে ন্যায্যমূল্য না থাকায় তারা হতাশ। এ অবস্থায় দ্রুত সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরের প্রবেশমুখ বলে পরিচিত ভৈরব নদীবন্দরের আড়তগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ নতুন ধান আসছে। প্রতি বছরই এ সময়ে এভাবে ধান আসে। ভৈরব মোকাম হয়ে এইসব ধান ঢাকা, চাঁদপুর, নরসিংদী, গাজীপুর এলাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু এবারের চিত্রটা ভিন্ন।
ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে হাওরাঞ্চলের জমি তলিয়ে যাওয়ায় আধাপাকা জমির ধান কাটতে বাধ্য হয় কৃষক। এইসব অপরিপক্ব ধানই বর্তমানে আসছে এখানকার মোকামে। এইসব ধানে চাল কম হবে বলে ক্রেতাদের আগ্রহ নেই কেনায়। ফলে দর নেমে এসেছে ৫শ থেকে ৬শ টাকার মধ্যে। এই মূল্য কৃষকের জন্য খুবই হতাশাব্যঞ্জক।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, জমিতে প্রতিমণ ধানের উৎপাদন খরচই দাঁড়ায় হাজার টাকা। হঠাৎ পানি চলে আসায় অনেকেই জমির ধান ঘরে তুলতে পারেননি। আর যেগুলো তুলেছেন সেগুলোও অপরিপক্বতার জন্য ওজন কম। এরমধ্যে আবার ক্রেতা না থাকায় ধানের বাজারদর কম। এই দরে ধান বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচ ওঠা তো দূরের কথা, ধারদেনা পরিশোধ করাও সম্ভব হবে না বলে দাবি করেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের কৃষক বজলু মিয়া, সাচনা বাজারের আব্দুর রশীদ, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের সফর আলী আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পানিশ^রের আরব আলী। ভৈরব চেম্বার ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুমায়ূন কবীর জানান, বাজারে আসা ধান বেশিরভাগই অপুষ্ট এবং ভেজা। তাই দাম কম।
