পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

বিএনপিকে নির্বাচনে আনার প্রস্তাব দিইনি

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩২ এএম

বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেননি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘এটা কথা প্রসঙ্গে এসেছে। নির্বাচন নিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আমি বলেছি, আমরা সব দলকেই নির্বাচনে চাই। সব দলই নির্বাচনে অংশ নেয়। কিন্তু একটি বড় দল আছে তারা বলে বেড়াচ্ছে নির্বাচন করবে না। কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছি, আপনারা পারলে আনেন।’

যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

এ প্রসঙ্গে ড. মোমেন আরও বলেন, ‘এ প্রসঙ্গে আরও বলেছি, কেউ যদি ইচ্ছে করে করতে না চায় তাহলে...। কারণ তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আসেনি। তারা জনগণকে ভয় পায়। আপনারা পারলে আনেন। আমরা তো সবাইকে আনতে চাই। তবে এটা কোনো প্রস্তাব আকারে দিইনি। কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছি।’

গত ৪ এপ্রিল ঢাকা-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন বলে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সফরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে বলে দেশটির সিনেটর চাক শুমারের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিএনপি সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির জন্ম হয়েছে ক্যান্টনমেন্টে। তারা ওই ধরনের জিনিসই (অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া) আশা করে। এজন্য তাদের আমরা আনতে পারি না। উনি (ব্লিঙ্কেন) বললেন, কেন আনতে পারেন না? তখন আমি বললাম, আপনি তাদের নিয়ে আসেন। দেখেন আপনি পারেন কি না। বাকি সব দল আসে। তারা যদি না আসে, আমরা কী করব। উনি বললেন, না এলে আপনারা তো কিছু করতে পারেন না।’

ড. মোমেন বলেন, ‘আমি বললাম, আমাদের দেশের গণতন্ত্র খুব ট্রান্সপারেন্ট। আমাদের দেশটা সৃষ্টি হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য। বাংলাদেশের প্রত্যেক লোক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। এজন্য শতকরা ৭২ ভাগের নিচে কোথাও ভোট হয় না। ভোটের রেসপন্স বেশি। এটা উৎসব। আপনার দেশের মতো না, জোর করে লোক নিতে হয়, কেউ আসে না। আমাদের গণতন্ত্র অন্যদের শেখানো লাগবে না।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে ব্লিঙ্কেনকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে মোমেন বলেন, ‘আমি বলেছি, আপনার রাষ্ট্রদূত আমাদের নির্বাচন দেখেছে। কোথাও কারচুপি হয়নি। আমাদের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন। আবার নতুন করে আমরা তৈরি করেছি। সবার গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ লোকদের নিয়ে করা হয়েছে।’

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন : কভিডসহ যেকোনো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় মোকাবিলা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত বুধবার সিঙ্গাপুরে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর আয়োজিত ‘কভিড-১৯-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা : বৈশ্বিক উদ্যোগ, কৌশল ও করণীয়’ শীর্ষক লেকচার সিরিজে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপকের বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় কভিড-১৯ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় কভিডের টিকা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ এবং দক্ষতার সঙ্গে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বসাধারণকে টিকা প্রদানেও সফলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।’

কভিডসহ যেকোনো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃহত্তর ঐক্য ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘কভিডের টিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতরণের ক্ষেত্রে মানবতার স্বার্থেই কোনো ধরনের রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীস্বার্থ বিবেচনায় আনা সংগত নয়।’

ড. মোমেনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর প্রথা অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত বিদগ্ধজনরা বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে ড. মোমেনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি কভিড মহামারীর ফলে পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থার সম্ভাব্য আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষিত নিয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ইকবাল সেবিয়ার সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র-শিক্ষক-গবেষক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, সিঙ্গাপুর সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত