‘উস্কানি দেওয়া নিউমার্কেট ব্যবসায়ী-কর্মীদের খোঁজা হচ্ছে’

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২২, ১১:১৭ পিএম

ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়া নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী-কর্মচারীদেরও খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই সংঘর্ষে নাহিদ মিয়া ও মোরসালিনের খুনিদের গ্রেপ্তারে ধীরে চলো নীতিতে এগুচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহনী জানায়।  

ওই দুই হত্যার মামলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি র‌্যাব ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যাওয়া নাহিদকে হত্যাকারী ইমন ও কাইউমকে ঘিরে তাদের তদন্ত চলছে। যেহেতু চিহ্নিত আসামীরা ছাত্র সেহেতু খুব সাবধানে তাদের এগুতে হচ্ছে। হুট করে কাউকে গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। এদিকে হত্যার আট দিনেও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় নাহিদ ও মোরসালিনের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মোরসালিনের ভাই ও মামলার বাদী নুর মোহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা হতাশ। আজও (মঙ্গলবার) পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি বলেছি প্রকাশ্যে খুন হলেও কেনো আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে না। তারা আমাকে আস্বস্ত করেছে দ্রুতই আসামী গ্রেপ্তার করা হবে।’

নাহিদের চাচা ও মামলার বাদী মো. সাঈদ ক্ষোভ প্রকাশ করে গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের হত্যার ঘটনায় বিচার খুব কমই হয়। তবে আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমি ডিবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছি। তবে তারা জানিয়েছে মূল আসামী দুজনকে আটক করা হয়েছে’।

সংঘর্ষের ঘটনায় নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের উস্কানির বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

তারা বলছে, সব বিষয় মাথায় লেখেই তদন্ত চলছে। যেসব ব্যবসায়ী পরিস্থিতি উস্কে দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।

ডিবির মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আসামীদের ছবির সঙ্গে গণমাধ্যমে আসা নাম মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ছাত্রদের বিষয় সেহেতু ওপর মহল থেকে খুব সাবধানে এগুতে বলা হয়েছে। সামান্য  ভুলের কারণে কোনো ছাত্রের জীবন যাতে নষ্ট না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনাল টিমের এডিসি মো. ফজলে এলাহী দেশ রূপান্তরকে বলেন, নাহিদকে মূলত ইমন ও কাইউম কুপিয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমরা কলেজের অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। মূল দুই আসামীর হলের রুমেও গিয়েছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

গত সপ্তাহের সোমবার রাতে নিউমার্কেটে দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকাল থেকে আবার দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। দিনভর সংঘর্ষে গুরুতর আহত নাহিদ ও মোরসালিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি এবং নিহত দুজনের স্বজনরা দুটি ও অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুরের ঘটনায় আরও একটি মামলা হয়েছে।

পুলিশের কাজে বাধা, ককটেল বিস্ফোরণ ও দুটি হত্যা মামলার পর আরও একটি মামলা হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট থানায়। মামলায়গুলোতে ২৪ বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের ১ হাজার ৭৫০ জন ছাত্র ও ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত