কাঁচামাল কিনতে বেশি ঋণ পাবেন ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২২, ১২:২২ এএম

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম এবং জাহাজ ভাড়া বেড়েছে। এতে শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। ঋণগ্রহীতারা ব্যাংকের মঞ্জুরি করা চলতি মূলধন ঋণসীমার সবটুকু ব্যবহার করেও এই বর্ধিত ব্যয় মেটাতে পারছেন না। বকেয়া থাকছে কাঁচামালের মূল্য, থেমে থাকছে উৎপাদন। এই পরিস্থিতিতে আমদানি-রপ্তানিসহ চলমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে গতিশীল থাকে সে লক্ষ্যে চলতি মূলধন ঋণসীমা বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোকে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রাখা এবং আমদানি-রপ্তানিসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যাংক কর্র্তৃক ঋণগ্রহীতাদের অনুকূলে ইতিমধ্যে মঞ্জুরি করা চলতি মূলধন ঋণসীমা প্রয়োজন হলে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য বাড়ানো যাবে। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণঝুঁকি কমিয়ে এবং গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে ঋণসীমা যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ানোর নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নির্দেশনা জারির সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে পোশাক খাত। কারণ এই খাতের উপকরণ আমদানি খরচ অনেক বেড়েছে। সেই তুলনায় বিদেশি ক্রেতারা পোশাকের দাম সমন্বয় করেনি। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন ঋণ বাড়ানোর দরকার ছিল। আমাদের দাবিও ছিল এটা বাড়ানোর। অবশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই দাবি বাস্তবায়ন করায় পোশাক খাতসহ শিল্প খাত বড় ধরনের সহায়তা পাবে।’

ব্যাংকিং পরিভাষায় উৎপাদন কর্মকাণ্ডে একবার ব্যবহার করা হয় এমন উপকরণ বা উপাদানকে চলতি মূলধন বলা হয়। দেশের ব্যবসায়ীরা উৎপাদনের এসব উপকরণ কেনার জন্য ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেন তাকে চলতি মূলধন ঋণ বলা হয়। এসব ঋণ স্বল্প সময়ের জন্য দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের তৈরি পোশাক খাতের অধিকাংশ উপকরণের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ^বাজারে দাম বাড়ার কারণে উপকরণের আমদানি ব্যয় বেড়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পোশাক খাতের প্রধান প্রধান কাঁচামাল আমদানির ব্যয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে কাঁচা তুলা ও সিন্থেটিক ফাইবার আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৪৪ শতাংশ, ইয়ার্ন আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১১৫ শতাংশ এবং কাপড় ও আনুষঙ্গিক পণ্য আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৪৫ শতাংশ।

অন্য এক তথ্যে দেখা যায়, আলোচিত সময়ে পোশাক রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৪৫ দশমিক ৫১ শতাংশ ব্যয় হয়েছে এ খাতের কাঁচামাল আমদানিতে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে দেশ আয় করেছে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ডলার। একই সময়ে পোশাকের সবধরনের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি হাতেম বলেন, ‘এত দিন পোশাক খাতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন ছিল ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ। এ বছর উপকরণের দাম বাড়ায় মূল্য সংযোজন কমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত