ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় চ্যালেঞ্জ: সম্পাদক পরিষদ

আপডেট : ০৩ মে ২০২২, ০৫:৩৪ পিএম

ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ। এবারের দিবসটির স্লোগান ‘জার্নালিজম আন্ডার ডিজিটাল সিজ’ বা ‘ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা’।

এই উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদ এক বিবৃতিতে জানান, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা ডিজিটাল যুগে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে। এই আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বিবৃতিতে জানান, অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছেন অনেকে। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের অ্যাক্টিভিস্ট, শিল্পী, লেখকরা এ আইনে মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুরু থেকে সম্পাদক পরিষদ এবং সাংবাদিকরা এ আইনের বিষয়ে উদ্বেগ ও আপত্তি জানিয়ে আসছেন। কিছুদিন আগে আইনমন্ত্রীও জানান, এ আইনের বিভিন্ন রকম অপব্যবহার হয়েছে। তিনিও আইনটি সংশোধনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে এ বছর ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬২তম। গত বছরে যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫২তম। ফলে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ১০ ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের।

ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) মঙ্গলবার ২০২২ সালের গণমাধ্যম সূচকটি প্রকাশ করে। আরএসএফ বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করে থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, তার ভিত্তিতে ২০০২ সাল থেকে আরএসএফ এই সূচক প্রকাশ করে আসছে। ২০১৩ সাল থেকে এই সূচকে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হয়। তখন বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪৪ তম।

২০২০ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫১তম। আর ২০১৯ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫০তম।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক ২০২২-এ শীর্ষ ১০টি দেশ হলো- ১. নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, কোস্টারিকা, লিথুনিয়া ও লিশটেনস্টাইন।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা ১০টি দেশ হলো-উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া, ইরান, তুর্কমিনিস্তান, মিয়ানমার, চীন, ভিয়েতনাম, কিউবা, ইরাক ও সিরিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত