নেত্রকোনার বারহাট্টায় পশু চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে প্রসূতি ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিদা চৌধুরী ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শিহাব উদ্দিন।
প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলাম এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পশু ডাক্তারের সিজারে মা-সন্তানের মৃত্যু
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও নিজ উদ্যোগে এ মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি করেছে প্রশাসন।
পরে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত এলাকাবাসী, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এতে বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে অস্ত্রোপচার (এপিশিওটমি) করা ও সেলাইয়ের সঙ্গে ব্যথা বাড়ানোর ইনজেকশন দেওয়ার সত্যতা পান তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। অভিযুক্ত পশু চিকিৎসক আবুল কাশেমকে খুঁজে না পেয়ে চিকিৎসক সনদপত্র নিয়ে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকেও জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার সনদপত্র দেখাতে বলা হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটন করা হবে বলেও জানান তিনি।
কমিটির অপর সদস্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিদা চৌধুরী বলেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না দেওয়া হলেও আলোচিত এ ঘটনার কারণ জানতে চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। ঘটনার পর থেকে কয়েক দফা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছে।
পশু চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে গত বুধবার দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামে প্রসূতি শরীফা আক্তার (২০) ও তার নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি আমলে নিয়ে এর কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। শরীফা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের বাক্প্রতিবন্ধী হাইছ উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছর বারহাট্টা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে শরীফা। গত বছর সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলার নামাগাঁও গ্রামে মহসিন মিয়ার সঙ্গে শরীফার বিয়ে হয়।
