ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপা খন্দকার এখন সিনেমাতেও সরব। সাম্প্রতিক কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।
ঈদ কেমন কাটল?
ঈদ ভালোই কেটেছে। পরিবার পরিজন সবার সঙ্গে বেশ আনন্দেই কাটল ঈদ। অবশ্য ঈদের ছুটি খুব বেশি দিন কাটাতে পারিনি। ঈদের পরপরই আবার কাজও শুরু করে দিয়েছি। গতকাল একটা সরকারি ডকুমেন্টারির কাজ করলাম। এটা আদম শুমারি নিয়ে। এ ছাড়া মা দিবসে আমার একটা বিজ্ঞাপনও রিলিজ হয়েছে। সামনে আরও নতুন কিছু কাজ করব।
রিভেঞ্জ সিনেমায় কাজ করেছেন। সেই সিনেমার কি খবর?
রিভেঞ্জ সিনেমার কাজ শেষ। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ছবিটি। এই সিনেমায় আমি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছি। এই সিনেমার চরিত্রের ডিটেইলটা এই মুহূর্তে বলতে চাই না। আমি চাই, সিনেমা হলে গিয়েই সবাই দেখুক। পরিচালক ইকবাল ভাইয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ভালো। এই সিনেমায় আমার সঙ্গে আছেন রোশান ও বুবলী। বুবলী ও রোশানের সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা ভালো। রোশানের সঙ্গে বেশি কাজ ছিল, বুবলীর সঙ্গে কম কাজ ছিল। তবে ভালো লেগেছে। শিল্পী হিসেবে কো আর্টিস্ট হিসেবে ওদের ভালো লেগেছে। বেশ সাপোর্টিভ ওরা। সব মিলিয়ে ইউনিটটা ভালো ছিল।
আপনি তো ইতিবাচক চরিত্রে কাজ করতেন, হঠাৎ নেতিবাচক চরিত্রে কাজ করার পেছনের কারণ কি?
রিভেঞ্জ সিনেমায় আমাকে মানুষ নেতিবাচক চরিত্রে দেখবে। নেতিবাচক চরিত্রে কাজ করার পেছনে তেমন কোনো কারণ নেই। তবে আমি সব সময় ডিফারেন্ট টাইপের চরিত্র খুঁজছিলাম। এই সিনেমায় ডিফারেন্ট টাইপের কিছু পেয়েছি বলেই কাজটা করতে রাজি হয়েছি। সব সময় তো পজিটিভ চরিত্রেই কাজ করেছি, এবার নিজেকে একটু ভিন্নভাবে দেখতেই নেতিবাচক চরিত্রে কাজ করলাম।
অন্যান্য সিনেমার কি খবর?
আমার প্রথম সিনেমা ‘ভাইজান এলোরে’ মুক্তি পায় ২০১৮ সালে। এরপর সাইফুল ইসলাম মান্নুর ‘পায়ের ছাপ‘ সিনেমায় কাজ করেছি। এটারও ডাবিং শেষ। রিলিজের অপেক্ষায় আছে। রিভেঞ্জের পর ‘মনোলোক’ নামের একটি সিনেমা করেছি। এটা মনস্তাত্ত্বিক একটা গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে। এরপর জাজের ‘মোনা’ সিনেমায় কাজ করলাম। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালক। এটার শুটিং শেষ। আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাকী আছে। ‘মোনা’ সিনেমা একটি বাচ্চাকে কেন্দ্র করে গল্প। আমি বাচ্চার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি।
ক্যারিয়ারের শুরুতেও প্রচুর সিনেমায় প্রস্তাব পেতেন, কিন্তু তখন সিনেমা না করে এত দেরিতে সিনেমায় আসলেন কেন?
ক্যারিয়ারের শুরুতেও সিনেমায় প্রচুর কাজের অফার পেয়েছি। তখন করিনি কারণ তখন সিনেমার অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। অশ্লীল সিনেমা নির্মাণ হতো। এসব নানা কারণেই তখন সিনেমা করিনি। এখন যে ধরনের সিনেমা হচ্ছে এ ধরনের সিনেমা করতে চাই এবং ভালো ভালো ক্যারেক্টার পেলে আমি মুভিতে নিয়মিত অভিনয় করব।
বর্তমানে যে ধরনের নাটক বানানো হচ্ছে তার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে মাঝে মাঝেই। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই ….
আমার ক্যারিয়ারের শুরুতে এক ধরনের নাটক হতো। এখন আরেক ধরনের নাটক হচ্ছে। যুগের সঙ্গে তো অনেক কিছুই পাল্টায়। এখন নাটক হচ্ছে, ওয়েব ফিকশন বানানো হচ্ছে। এখন ডিফারেন্ট টাইপের ক্যারেক্টারগুলো করছি। আমার কথা হচ্ছে, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করাটাই হচ্ছে বড় কথা। আর মানের কথা যদি বলেন, তাহলে বলব, আগের চেয়ে নাটকের মান অনেক বেড়েছে। আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই গণমাধ্যমে আপনার খবর দেখি না। এর পেছনের কারণ কী?
আগের চেয়ে গণমাধ্যমে আমার উপস্থিতি এখন কম থাকার কারণ হচ্ছে এখন গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে খুব একটা ভালো লাগে না। আসলে আমি এখন নীরবে কাজ করে যেতে চাই। একটা কাজ করব, তারপরেই ফলাও করে নিউজ দিব, সেটা এখন আর ইচ্ছে করে না। এখন কাজটাকেই বড় করে দেখি। কাজ করলাম আর মানুষকে জানাতে হবে এমনটা মনে হয় না।
