ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৫০ শিক্ষার্থীর কোরআন হিফজ সম্পন্ন

আপডেট : ১০ মে ২০২২, ০৬:২৮ পিএম

রাজধানীর লালমাটিয়ার ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৫০ শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে। শিক্ষকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব শিক্ষার্থী কোরআনের হাফেজ হয়। তাদের মধ্যে ১৩ নারী শিক্ষার্থীও রয়েছেন। তাদের ২৫ জনই করোনা মহামারীর গত দুই বছরে হিফজ সম্পন্ন করে। 

বেশিরভাগ শিক্ষার্থী কোরআন হিফজ সম্পন্ন করতে দুই বছর সময় ব্যয় করলেও মাত্র ১০ মাস থেকে ১২ মাসেও হিফজ সম্পন্ন করে কেউ কেউ। হিফজ বিভাগের সফলতার পাশাপাশি ও লেভেল পরীক্ষায়ও সব শিক্ষার্থী ‘এ প্লাস’ পেয়ে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।

স্কুলটিতে প্রতি সেকশনে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জন এবং হিফজ ক্লাসে শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাত সংখ্যা ১:৪৷

ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সৈয়দা বদরুন্নেছা ইসলাম বলেন, ব্রিটিশ কারিকুলামে ইংরেজি ভাষা শেখার পাশাপাশি বিদেশি যে কোনো একটি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে। গতানুগতিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গুলোতে স্প্যানিশ, জাপানিজ, চাইনিজসহ অন্যান্যে ভাষা শেখালেও ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অন্য বিদেশি ভাষার পাশাপাশি আরবি ভাষা শেখার সুযোগ করে দিয়েছে। স্কুলের বেশিরভাগ অভিভাবক বিদেশি ভাষা হিসেবে আরবিকেই তাদের সন্তাদের জন্য পছন্দ করেছেন। ফলে আরবি ভাষা শিখতে গিয়েই অধিকাংশ শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন মুখস্ত করে ফেলেছে। এ ছাড়া যেসব ছাত্রছাত্রী নিয়মিত হিফজ ক্লাসে অংশগ্রহণ করেন না তারাও “ও লেভেল” এবং “এ লেভেল” পড়া শেষ করার পর ৮ থেকে ১০ পারা কোরআনের হাফেজ হয়ে যান।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে মসজিদভিত্তিক মক্তব ব্যবস্থা এক সময় জনপ্রিয় ছিল। ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা এসব মক্তব থেকে দেওয়া হতো, কিন্তু কালের পরিক্রমায় গ্রামে যেমন এ ব্যবস্থার প্রচলন কমে গেছে তেমনি শহরে একেবারে নেই বললেই চলে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের মক্তবে আরবি ও ইসলাম শিক্ষা দিতে নারাজ। তবে সচেতন মুসলিম মা-বাবারা তাদের সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোর পাশাপাশি পবিত্র কোরআন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখাতে চান। কিন্তু আমাদের দেশে আরবি, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার জন্য আলাদা আলাদা স্কুল ও মাদ্রাসা থাকলে একটি স্কুলে গিয়ে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি শিখতে পারবে এরকম প্রতিষ্ঠান নাই বললেই চলে। তাই আমাদের স্কুলের সিলেবাসে ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে আরবি ভাষাকে যুক্ত করা ও আল-কোরআন শেখার সুযোগ থাকায় অনেক উচ্চশিক্ষিত পরিবার তাদের সন্তানদের জন্য আমাদের স্কুলটি বেছে নিয়েছেন।

ওয়েটন ইন্টারন্যশনাল স্কুলের আরবি বিভাগের প্রধান মাসুম বিল্লাল জানান, ‘হিফজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে আরবি ভাষার ক্লাস করার পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে ক্লাস শুরু হওয়া আড়াই ঘণ্টা আগে স্কুলে উপস্থিত হতে হয় হিফজ ক্লাস করার জন্য। সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা হিফজ করানোর পরে আধা ঘণ্টা বিরতি দিয়ে মূল কারিকুলামের ক্লাস শুরু করা হয়, ফলে হিফজ শেখার কারণে মূল কারিকুলামের ক্লাস সম্পন্ন করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না।’

জানা যায় যে, ক্রিটিশ কারিকুলামে সামার ভ্যাকেশন, উইন্টার ভ্যাকেশন ও বাংলাদেশে রমজান মাসে স্কুল ছুটি থাকায় বছরে সর্বমোট তিন মাস লম্বা ছুটি থাকে। এই ছুটির সময়ে স্কুলটিতে হিফজের ছাত্রদের স্বাপ্তাহে ৬ দিন কোরআনের হিফজ করানো হয়। স্কুলে ক্লাস চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে ৫ দিন সকাল ৬টা থেকে ৮টা এবং ছুটির দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হিফজ ক্লাস করানো হয়। ফলে স্কুলটির হিফজে অধ্যায়নরত অধিকাংশ শিক্ষার্থী দুই বছরের মধ্যেই হিফজ সম্পন্ন করতে পারে।

ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক (জনসংযোগ) কামাল পাশা জানান, ‘স্কুলটিতে বর্তমান হাফেজের সংখ্যা ৫০ জন থাকলেও আরও প্রায় ৪০ জন ছাত্র পাইপলাইনে রয়েছে যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করতে পারবে ইনশাআল্লাহ।’

আরও জানা যায়, বর্তমান কারিকুলাম থেকে ও লেভেল এবং এ লেভেল কমপ্লিট করার পর শিক্ষার্থীদের দেশে এবং দেশের বাইরে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কোনো ছাত্র যদি আরবি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চায়, তাহলে মিশরের আল আজহার ইউনির্ভাসিটি, সৌদি আরবের মদিনা ও মক্কা ইউনির্ভাসিটিতে পড়াশোন করার সুযোগ রয়েছে তাদের।

গত ২০ ডিসেম্বর ২০২১, বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু কর্নার চালু করা হয়েছে। এখান থেকে মাত্র ১০ টাকায় বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে নিয়ে লেখা যেকোনো বই কিনতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত