জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের ছাদ থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় অমিত কুমার বিশ্বাস নামে ওই শিক্ষার্থীর। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অমিতের বাড়ি খুলনায়। তিনি শহীদ রফিক-জব্বার হলের ৩১৫ নম্বর কক্ষে থাকতেন। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে হলের রফিক ব্লকের পাঁচতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান অমিত। হলের শিক্ষার্থীদের ধারণা, বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত নিচে পড়ে যান অমিত। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মারা যান অমিত।
এনাম মেডিকেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইফরান বলেন, ইন্টারনাল ব্লিডিং ও মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে অমিতের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান হৃদয় বলেন, আমি তিনতলায় থাকা অবস্থায় ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শুনি। নিচে গিয়ে অমিতকে পড়ে থাকতে দেখি। পরে হলের অন্য ছাত্রদের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অমিতের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী রবিন ঘোষ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অমিত খুবই ভালো ছেলে। তার কোনো ধরনের হতাশা ছিল না। ও নিয়মিত মেডিটেশন করত। তবে ইদানীং একটু অসুস্থ ছিল। এর বাইরে কোনো সমস্যা ছিল না। দুপুরেও আমরা একসঙ্গে খাবার খেয়েছি। পরে সে হলে চলে আসে। কিছুক্ষণ পর শুনি সে ছাদ থেকে পড়ে গেছে।
শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ঘটনা শুনে আমি তাৎক্ষণিক অমিতকে এনাম মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাই। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছি। কিন্তু তাকে বাঁচাতে পারিনি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়িতে করে তাকে খুলনায় তার গ্রামের বাড়িতে পাঠাব। তার সঙ্গে সহপাঠীরাও যাবে।
এদিকে অমিতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম। শোকবার্তায় তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, অমিতের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় একজন মেধাবী ছাত্রকে হারাল।
