সয়াবিন তেলের আমদানিতে ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহারের সুপারিশ

আপডেট : ১১ মে ২০২২, ১১:০৭ পিএম

ভোজ্যতেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সয়াবিন তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। বর্তমানে সয়াবিন তেলের আমদানিতে ৫ ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়।

ভোজ্য তেলের আমদানি, মজুত, সরবরাহ, ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বুধবার মতবিনিময় সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এ সুপারিশ করেন।

পাশাপাশি রাইস ব্র্যান, সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলাসহ যে কোনো ধরনের ভোজ্যতেল করমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও বলেছেন তিনি।

করোনা মহামারির মধ্যে ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতার শুরু হয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তা আরও বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে প্রথমে ভোজ্য তেল পরিশোধন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং বিপণন পর্যায়ে ৫ শতাংশসহ মোট ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়। এরপর আমদানি পর্যায়েও ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এরপরও এই মাসের শুরুতে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪০ টাকা বেড়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম বলেন, ‘বিশ্ব বাজার পরিস্থিতির কারণে দেশের বাজারে ভোজ্য তেল নিয়ে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দেওয়ার জন্য বর্তমানে আমদানি পর্যায়ে যে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, তাও তুলে দেওয়ার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আর ফিনিশড গুডসের আমদানি উৎসাহিত করার রাইসব্র্যান, সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলা অয়েলসহ সব ধরনের ভোজ্য তেল বিনা শুল্কে আমদানির সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে যে কেউ তেল আমদানির সুযোগ পারে এবং বাজারে জোগান বাড়বে। এতে বাজারও স্বাভাবিক থাকবে বলে আমি মনে করি।’

খোলা ভোজ্য তেল বিক্রি বন্ধের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে বোতলের গায়ে মূল্য লেখা থাকার কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা খোলা তেল হিসাবে ২২০ টাকা লিটার বিক্রি করছেন। ভবিষ্যতে যাতে এই রকম পরিস্থিতির আর উদ্ভব না হওয়ার জন্য খোলা তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’

মতবিনিময় সভায় ভোজ্য তেল আমদানিকারকদের মধ্যে টি কে গ্রুপের পরিচালক মো. শফিউল আতহার তাসলিম, এস আলম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক কাজী সালাহ উদ্দিন এবং সিটি গ্রুপের উপদেষ্টা অমিতাভ চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মাওলা এবং নিউ মার্কেট ডি ব্লক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরসহ অনেক ব্যবসায়ীও সভায় ছিলেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এ রকম সংকটময় সময়ে আপনাদের লাভ কম করা উচিত। এই পরিস্থিতি তো অবশ্যই স্বাভাবিক হবে। তখন আপনার স্বাভাবিক লাভ করতে পারবেন। অল্প কয়েকজন অসৎ ব্যবসায়ীদের কারণে পুরো ব্যবসায়ী সমাজের বদনাম হতে পারে না। তাই আপানারা নিজেদের উদ্যোগে যারা এ রকম মজুত করে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।’

আলোচনায় মিল মালিক প্রতিনিধিদের মধ্যে এস আলম গ্রুপের সালাহ উদ্দিন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাজারে হস্তক্ষেপ বন্ধের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, ‘২০০৯-১০ সালেও এরকম একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও এ রকম হয়েছিল। কিন্তু পরে বিষয়টি ব্যবসায়ীদের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় বাজার ঠিকই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত