নৌঘাঁটিতে অবরুদ্ধ মাহিন্দা প্রেসিডেন্ট ভবনও ঘেরাও

আপডেট : ১২ মে ২০২২, ০২:২৯ এএম

চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়া শ্রীলঙ্কায় সরকার হঠানোর আন্দোলন হঠাৎ করেই সহিংস হয়ে উঠেছে। মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও দেশটিতে বিক্ষোভ এখনো থামেনি। গত সোমবার থেকে তার পদত্যাগের পর ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় একজন সরকারদলীয় এমপির প্রাণহানিসহ কমপক্ষে দুই শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা শ্রীলঙ্কার উত্তর-পূর্বে ত্রিনকোমালির অত্যন্ত সুরক্ষিত নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটির সামনে জড়ো হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, এ রকম একটা খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে মাহিন্দা রাজাপাকসে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে সেখানে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারীকে জড়ো হতে দেখা যাচ্ছে। মানুষজন কারফিউ ভেঙে রাজধানী কলম্বোতে রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেরও পদত্যাগ দাবি করছেন। শ্রীলঙ্কায় লুটপাট, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা অন্যের ওপর হামলা করতে দেখলে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের ভবন অবরোধ করে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে সেøাগান দিচ্ছেন। তারা বলছেন, গোতাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ থামবে না।

এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে বিশেষ দলগুলোর নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক ডেকেছেন শ্রীলঙ্কার স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে। স্পিকার মাহিন্দার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, স্পিকারের আহ্বানে আজ (গতকাল) বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় ভার্চুয়াল বিশেষ সভায় যোগ দেবেন নেতারা। দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন দলের নেতাদের নিয়ে স্পিকার সভা ডেকেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর। শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য একটি নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিক্ষোভকারীরা ও প্রধান একটি বাণিজ্য গোষ্ঠী। সোমবার দিনভর সহিংসতায় আটজন নিহত ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগের পরদিন মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে সহিংসতা বন্ধ করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কায় সেনা পাঠানো নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কল্পনাপ্রসূত খবর নাকচ করে দিয়েছে ভারত। কলম্বোয় ভারতীয় হাইকমিশন বুধবার দৃঢ়ভাবে এমন খবর প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, শ্রীলঙ্কার গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার পুরোপুরি সমর্থন করে ভারত। আগের দিন শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ও তার পরিবারের সদস্যরা ভারতে পালিয়েছেন। এ খবরকে ‘ভুয়া এবং নিতান্তই মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছিল ভারতীয় হাইকমিশন।

শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি, ওষুধপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চরম সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভ এখন তুঙ্গে এবং দেশটির লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলছে দেশটিতে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষুব্ধ। সরকার অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য করোনা মহামারীতে দেশটির পর্যটন বাণিজ্য ধসে পড়াকে দায়ী করলেও বেশিরভাগ মানুষই সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনাকে এর জন্য দায়ী করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত