পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ঘুমন্ত শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পুত্রবধূ লাবণ্য আক্তারকে (২১) আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজনীন বেগম (৫০) ওই এলাকার মৃত হানিফ হাওলাদারের স্ত্রী।
নিহতের ভাসুর মো. কালাম হাওলাদার বলেন, বুধবার রাতে ছেলে উজ্জ্বল ফোন দিয়ে জানায়- তার মা ফোন রিসিভ করছে না। আমাকে ঘরে গিয়ে তার মায়ের খোঁজ নিতে বলেন। আমি ঘরের সামনের দরজা বন্ধ দেখে পেছনের খোলা দরজা দিয়ে ঢুকেই চৌকির পাশে মশারিতে প্যাঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নাজনীনের লাশ দেখতে পাই। পরে পুলিশকে জানাই।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন মিলন বলেন, স্থানীয়দের বরাতের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মশারির মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃতদেহ পাই। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত লাবণ্যর জামা-কাপর রক্তে ভিজে যাওয়ায় সে তা চালের ড্রামের নিচে লুকিয়ে রেখেছিল, সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ সার্কেলের এএসপি সুদীপ্ত সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে ঘুমন্ত ওই নারীকে। পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা সেটি তদন্তে উঠে আসবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বসির উদ্দিন সিকদার জানান, নাজনীনের সঙ্গে তার পুত্রবধূ লাবণ্যর সম্পর্ক ভালো ছিল না। এ নিয়ে তিনি সালিশ বৈঠকও করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উজ্জ্বল হাওলাদারের স্ত্রী লাবণ্য আক্তার উজ্জ্বলের মায়ের সাথে এক ঘরেই বসবাস করতেন। উজ্জ্বল ও তার ছোট ভাই রাজু হাওলাদার জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় থাকেন। তারা দুই ভাই গত ঈদ শেষে ১০ মে ঢাকায় ফিরে যান।
