২০২০ সালে দেশে করোনা সংক্রমণের আগে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতন দেখা দিলে সরকারের উদ্যোগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যমান আইনি সীমার বাইরে থেকে ব্যাংকগুলো যাতে সহজে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে, সেজন্য বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশনা দেয়। তবে দুই বছরেরও বেশি সময় পার হলেও অনেক ব্যাংক এ সংক্রান্ত কোনো তহবিল গঠন করেনি। আবার যেসব ব্যাংক তহবিল গঠন করেছে, তার উল্লেখযোগ্য অংশই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হয়নি। তহবিল গঠন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল পর্যন্ত দেশের ৩৭টি ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। গত ৮ মার্চ এ তহবিলের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এ সময়ে ব্র্যাক ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করায় এক মাসে এর আকার কিছুটা বেড়েছে। এখনো দেশে কার্যক্রমে থাকা ২৪টি ব্যাংক কোনো তহবিল গঠন করেনি। এদিকে ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পুঁজিবাজারে প্রকৃত বিনিয়োগ হয়েছে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত ৮ মার্চ বিশেষ তহবিল থেকে পুঁজিবাজারে প্রকৃত বিনিয়োগ ছিল ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসেরও বেশি সময়ে বিশেষ তহবিল থেকে মাত্র ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ বেড়েছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় খুবই কম। এর বাইরে অবশ্য ওই বিশেষ তহবিল থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ গেছে বেক্সিমকো লিমিটেডের শরিয়াহভিত্তিক গ্রিন সুকুক বন্ডে। এটি হিসাবে নেওয়া হলে ব্যাংকগুলোর গঠন করা বিশেষ তহবিল থেকে বিনিয়োগ হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা গঠিত তহবিলের ৬১ শতাংশ।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে যে লেনদেন হয়, তার ৮০ শতাংশের বেশি হয় ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে। যদিও অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকাই বেশি থাকে। ভারতের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ৫৫ শতাংশ। বিশ্বের পুঁজিবাজারগুলোতে গড়ে ৪১ শতাংশ লেনদেন সম্পন্ন হয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে। কিন্তু নানা কারণে দেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ অনেক কম। এমন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি দেশের ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে নতুন করে বিনিয়োগ করতে বারবার অনুরোধ জানালেও তাতে সাড়া দিচ্ছে না ব্যাংকগুলো।
