কুপি-হারিকেনের দুর্গম চরে এখন বিদ্যুতের আলো

আপডেট : ১৭ মে ২০২২, ১১:৫৪ পিএম

ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ফুলকুমারসহ ১৬টি নদন্ডনদীবেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলা। এসব নদন্ডনদী লাগোয়া অসংখ্য দুর্গম চরের বাসিন্দাদের রাতের বেলা কুপি (চেরাগ), হারিকেনের আলোই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু চরগুলোর সেই চিত্র এখন বদলে গেছে। বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করছে এখন চরবাসীর ঘর। নদন্ডনদীর তলদেশ দিয়ে ২১টি পয়েন্টে সাবমেরিন কেব্লের মাধ্যমে ৫০টি চরে ৪৫০ কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এসব চরের বেশিরভাগ মানুষ এখন বিদ্যুতের আওতায় চলে এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে সাড়ে চার শতাধিক চরাঞ্চল রয়েছে। কিছুদিন আগেও এসব চরের মানুষজন রাতের অন্ধকারে বসতবাড়িতে কুপি ও হারিকেন ব্যবহার করত। পাশাপাশি মোবাইল সেট, চার্জার লাইট চার্জ দিতে চরবাসীকে যেতে হতো বিভিন্ন হাট-বাজারে কিংবা কুড়িগ্রাম জেলা শহরে। এখন দুর্গম চরগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি এসেছে ডিশলাইনও। ফলে তারা টেলিভিশনসহ ইলেকট্রিকসামগ্রী ব্যবহার করছে। ঘরে ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ঘোষণার অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামের দুর্গম চরগুলোতে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎলাইন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি, সেসব এলাকায় সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চরের ৫০টি চরে ২১টি সাবমেরিন কেব্লের মাধ্যমে নদীর তলদেশ দিয়ে ৪৫০ কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে প্রায় ১৮ হাজার পরিবার। বিদ্যুতের আলো পেয়ে ব্যাপক খুশি এসব পরিবার।

চরের বাসিন্দা শাহানাজ বেগম বলেন, ‘বিদ্যুৎ পেয়ে খুবই উপকার হয়েছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাটা এখন অনেক সুবিধা হইছি। বিদ্যুতের কারণে চরে থেকেও আর চর মনে হয় না।’

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে যে কয়টা চর আছে সবখানেই এখন বিদ্যুৎ। শহরের মানুষের মতো চরের মানুজনও ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।’

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় কুড়িগ্রামের ৫০টি চরের ১৮ হাজার পরিবারের কাছে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি চরগুলোতেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত