স্কোর বোর্ড বলছে আরও ১০ ওভার বাকি। তবে বাদ সেধেছে সময়। ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রডের সিদ্ধান্ত খেলা হবে ৬টা ৭ মিনিট পর্যন্ত। ঘড়ির কাঁটা সেখানে পৌঁছে যাওয়ায় বাকি ওভারগুলো আর হলো না। যদি হতো তাহলে শ্রীলঙ্কার আরও কয় উইকেট পড়ত সেটাই কালকের দিন শেষে প্রশ্ন। তাইজুলের বল যেভাবে ঘুরছে তাতে শেষ দিন চট্টগ্রাম টেস্টে দারুণ রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে বলাই যায়। কাল দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ১৭.১ ওভারে ৩৯ রান তুলতে ২ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এখনো তারা ২৯ রানে পিছিয়ে। লঙ্কাকে কাল ২০০’র মধ্যে আটকে দিতে পারলে মাত্র ১৩২ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। মুমিনুল হকরা সেই চেষ্টাই তো করবেন। এর আগে দলকে দারুণ অবস্থায় রেখে গেছেন মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তোলার পথে এই ব্যাটসম্যান প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ হাজার রানের কোটা ছুঁয়েছেন। করেছেন ২৮২ বলে ১০৫। তাতে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৪৬৫, লিড ৬৮ রান।
সফরকারীদের ২০০-তে আটকে দেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে কাল দিন শেষের দুটি বল। তাইজুলের দুই ওভারেই হয়েছে বল দুটি। ১৬তম ওভারের চতুর্থ বলে এম্বুলদেনিয়া রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। অফস্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে ঢোকা বলটি তাকে এলবিডব্লিউ করে দেয়। আম্পায়ারও আউট দেন। কিন্তু রিভিউতে দেখা যায় বল লাইনের বাইরে থেকে প্যাডে লাগে। তবে পরের ওভারের প্রথম বলে আর বাঁচতে পারেননি। এবার আম্পায়ারের সিদ্ধান্তেরও দরকার হয়নি। প্রায় এক হাত বাঁক নেওয়া তাইজুলের বলটি সরাসরি নাইটওয়াচম্যান এম্বুলদেনিয়ার স্টাম্প ভেঙে দেয়। ২ রানে এম্বুলদেনিয়ার বোল্ড হওয়া যারা দেখেছেন তাদের বুঝে যাওয়ার কথা শেষ বিকেলে ভোজবাজির মতো বদলে গেছে চট্টগ্রামের উইকেট। এর আগে তাইজুলের থ্রোতেই ওপেনার ওশাদা ফার্নান্ডোকে ১৯ রানে ফিরিয়েছে বাংলাদেশ।
লঙ্কার ইনিংসের ওই ৪৫ মিনিট আগে পুরো দিনটাই মুশফিকময়। আগের দিনই তার ৫ হাজারে পা দেওয়ার স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছিল। অপরাজিত ৫৩ রানে থাকা মুশফিক সেই মাইলফলকে পৌঁছলেন কাক্সিক্ষতভাবেই। তবে সময় নিলেন অনেকটা। ৫ হাজারের জন্য তার দরকার ছিল ৬৮ রান। ৬২ রানে গিয়ে প্রত্যাশার চাপে সাবলীল খেলতে পারছিলেন না যেন। বাকি ৬টি রান করতে খেলেছেন ২৯ বল। কীর্তি গড়ার পরও রানের গতি ছোটাতে পারেননি মুশফিক। খেলেছেন খুব দেখেশুনে। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি বল খেলা সেঞ্চুরিতে পৌঁছতেও সময় নিয়েছেন। ২৪১ বলে করেছেন ৯০। সেখান থেকে বাকি ১০ বল খেলতেও তার লেগেছে ঠিক ২৯ বল। অবশেষে সেঞ্চুরির পর আর বেশি এগোতে পারেননি। আর ৫টি রান করে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন। অবশ্য এদিনের সুইপে তার দোষ দেখার কিছু নেই।
মুশফিকের মতো সেঞ্চুরি পেতেন লিটন দাসও। সকালের সেশনটা দুজনে দারুণ খেলে লাঞ্চের পর প্রথম বলেই বিপদ ডেকে আনেন। কাশুন রাজিথার বলে কাট শট খেলতে গিয়ে ৮৮ রানের ইনিংসটি শেষ করেন লিটন। ১৬৫ রানের জুটি ভাঙে তাতে। এর পরের বলে ১৩৩ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া তামিম ক্রিজে এসেই বোল্ড। জোড়া ধাক্কাটা এসেছে তামিমের বর্তমান সময়ের দুর্বলতায়। ব্যাড-প্যাডের ফাঁক রেখে ড্রাইভ করতে গিয়ে সেই আফগানিস্তান সিরিজ থেকেই বোল্ড হচ্ছেন। সেই ভুলটা শোধরাতে পারেননি। তাই মুশফিকের পর একই দিনে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৫ হাজারের কোটা ছোঁয়া হলো না তামিমের। আছেন আর ১৯ রান দূরে। রাজিথার হ্যাটট্রিক বল সামাল দেন সাকিব আল হাসান। মাত্র ২৬ রান করে মুশফিকের সঙ্গে ৩৬ রানের জুটি গড়েন। শেষদিকে তাইজুল ২০ রান করে দলের রান আরও এগিয়ে দেন।
তাতে লিড এগোয়নি বেশি। আক্ষেপটা মিলিয়ে দিচ্ছে শেষ বিকেলের পিচ। যেভাবে বল ঘুরছে এমন হলে শ্রীলঙ্কার খুব বেশি রান তোলার কথা নয়। অবশ্য এই উইকেটেই এম্বুলদেনিয়া ও রমেশ মেন্ডিসকেও তো থামাতে হবে।
