১২ দেশে ছড়িয়েছে মাঙ্কিপক্স, মৃত্যু ও সংক্রমণের ঝুঁকি কম

আপডেট : ২২ মে ২০২২, ০৫:১০ এএম

ভাইরাসজনিত বিরল রোগ মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ইউরোপে। ১২টি দেশে ইতোমধ্যে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত শুক্রবার ডব্লিউএইচওর ইউরোপীয় শাখা জরুরি বৈঠকও করেছে।

চলমান সংক্রমণ পরিস্থিতিকে ইউরোপে মাঙ্কিপক্সের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব বলে  উল্লেখ করেছে জার্মানি। ইতোমধ্যে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াতেও শনাক্ত হয়েছে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগী। স্পেনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি; ২৪ জন। এছাড়া ইসরায়েলেও সম্প্রতি একজন রোগী মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তি সম্প্রতি পশ্চিম ইউরোপ থেকে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছিলেন। যুক্তরাজ্যে এখন ২০ জন শনাক্ত রোগী রয়েছেন। ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি জানিয়েছে, সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই পুরুষ যারা নিজেদের সমকামী, উভকামী কিংবা কোনো পুরুষের সঙ্গে যৌন সংসর্গের কথা জানিয়েছেন।

পর্তুগালে সংক্রমিত ১৪ জনই শনাক্ত হয়েছেন বিভিন্ন যৌন চিকিৎসা কেন্দ্রে। তারাও পুরুষ এবং নিজেদের সমকামী, উভকামী অথবা অপর কোনো পুরুষের সঙ্গে যৌন সংসর্গের কথা জানিয়েছেন। স্পেনের স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার ২৩ জনের দেহে নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই মাদ্রিদ এলাকার এবং বেশিরভাগ সংক্রমণের সঙ্গেই প্রাপ্ত বয়স্কদের একটি বাষ্পীয় স্নানাগারের সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইতালির ল্যাজিও অঞ্চলের স্বাস্থ্য কমিশনার আলেসিও ডি আমাতো রয়টার্সকে বলেন, ‘এ রোগটি যৌনবাহিত কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই আগেভাগেই এমন ধারণা পোষণ করা উচিত হবে না আমাদের।’

মাঙ্কিপক্স একটি বিরল ও স্বল্প পরিচিত রোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার উষ্ণ ও আর্দ্র বনাঞ্চলের বানররা ছিল এ রোগের প্রথম শিকার। তারপর একসময় মানবদেহেও সংক্রমিত হওয়া শুরু করে রোগটি। মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাসজনিত অসুখ। স্মলপক্স ভাইরাস শ্রেণির একটি ভাইরাস এ রোগের জন্য দায়ী। ভাইরাসটির দুটি রূপান্তরিত ধরন রয়েছেÑ মধ্য আফ্রিকান ও পশ্চিম আফ্রিকান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাস প্রাণঘাতী নয়।

রোগটির বিভিন্ন লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, ঘেমে যাওয়া, পিঠে ব্যথা, মাংসপেশির টান ও অবসাদ। প্রথম পর্যায়ে রোগীর জ্বর আসে, পাশাপশি শরীরে দেখা দেয় ফোস্কা ও অধিকাংশ ঘটনায় শুরুতে মুখে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে; বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের তলা। সার্স-কভ-২ বা করোনাভাইরাসের মতো মাঙ্কিপক্স ভাইরাস সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। গণসংক্রমণের ঝুঁকিও খুব কম। এতদিন কেবল মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকাতেই এ রোগে আক্রান্ত রোগীর দেখা মিলত। এ কারণে এই ভাইরাসটি করোনা মহামারীর মতো দুর্যোগ বয়ে আনবে না বলেই ধারণা করছেন সংক্রামক রোগ ও জীবাণুবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা; তবে ডব্লিউএইচও এতটা নিশ্চিত হতে পারছে না। সংস্থার ইউরোপীয় শাখার এক কর্মকর্তা এ সম্পর্কে রয়টার্সকে বলেন, ‘এ মহাদেশের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকাল জুড়ে পার্টি ও উৎসব চলতে থাকে। এ কারণে সংক্রমণ আরও বাড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

মাঙ্কিপক্স রোগের জন্য এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, স্মলপক্স বা জলবসন্তের জন্য ব্যবহৃত টিকা মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে ৮৫ শতাংশ কার্যকর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত