সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সচাপায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল মালিক (৬৫) মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার বাউলবাগ গ্রামের মৃত সোয়াব উল্লাহর ছেলে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের সহায়তায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণ বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্সগুলো দখলে নিয়েছে। একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ দখলমুক্ত করা যায়নি।
নিহত আবদুল মালিকের ছেলে কামরুল হাসান জানান, তার বাবাকে গত রবিবার ওসমানী হাসপাতালের ২৬নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। সোমবার একটি পরীক্ষার জন্য তাকে ওয়ার্ড থেকে বহির্বিভাগে নেওয়া হয়। হেঁটে যাওয়ায় তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখন তিনি জরুরি বিভাগের সামনে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স পেছন দিকে এসে গাছের সঙ্গে আবদুল মালিককে চাপা দেয়। তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসমানী হাসপাতাল ফাঁড়ি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পার্কিং করার সময় আবদুল মালিককে চাপা দেয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্স। ওই অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সহকারী সজিব আহমদ গাড়িটি ব্যাক গিয়ারে চালিয়ে পার্কিং করার সময় তাকে চাপা দেয়।
ওসমানী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সমন্বয়ক ডা. কায়সার খোকন জানান, মাথায় গুরুতর আঘাতে আবদুল মালিকের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটি আল মদিনা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নামক প্রতিষ্ঠানের। দীর্ঘদিন ধরেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করে রাখা হয়। এসব অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিয়ে গড়ে উঠেছে হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় দালালদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তাদের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সরকারি হাসপাতালের ভেতরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং বাণিজ্য। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, ডাক্তার ও হাসপাতালে আসা রোগীরা।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, ওই অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর ও চালকের নাম সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা না হলে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সটি আটক করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া অ্যাম্বুলেন্সচাপায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছেন জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাসপাতাল প্রাঙ্গণ বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্সগুলো দখলে নিয়েছে। সরাতে চাইলে পরিবহন শ্রমিকরা হাসপাতালে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের নানা হুমকি-ধমকি দেন। এসব অ্যাম্বুলেন্স সরাতে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।
