রাজশাহীর পর ফজলি আম উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এখন থেকে এ জেলা দুটো ফজলি আমের ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) স্বত্ব ব্যবহার করতে পারবে।
মঙ্গলবার জিআই স্বত্ব নিয়ে শুনানি শেষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পেটেন্ট, ডিজাইন এবং ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরেরর আপিল কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রার জনেন্দ্র নাথ সরকার জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলা এখন থেকে ফজলি আমের উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে জিআই স্বত্ব ব্যবহার করতে পারবে। আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি আমটি বাজারে আসবে।
তিনি বলেন, 'সিদ্ধান্ত হয়েছে এখন থেকে উভয় জেলাই ফজলি আমের জিআই স্বত্ব ব্যবহার করতে পারবে'।
ডিপিডিটি থেকে রাজশাহীর ফজলি আমের জিআই স্বত্ব পাওয়ার পর ২০২১ সালের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষকের একটি গ্রুপের দায়ের করা পিটিশনের পর ডিপিডিটি গঠিত ট্রাইব্যুনালে শুনানির পর এই রায় এসেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সমিতি আমটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের দাবি করে একটি পিটিশন দাখিল করে এবং রাজশাহীর পাওয়া জিআই স্বত্বের বিরোধিতা করে।
ভৌগলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন-জিআই) হচ্ছে- একটি প্রতীক বা চিহ্ন, যা পণ্য ও সেবার উৎস, গুণাগুণ ও সুনাম ধারণ ও প্রচার করে।
কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সাথে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটাকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ইন্টারন্যাশনাল প্রোপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে বাংলাদেশের পেটেন্টস, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্ক বিভাগ (ডিপিডিটি) জিআই সনদ দেয়।
রাজশাহীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলীম উদ্দীন।
