সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি গ্রামের ছেবাতন (৭০) ছেলে ও পুত্রবধূর অত্যাচার ও ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে লাঠিতে ভার দিয়ে হাজির হন থানায়। অত্যাচার-নির্যাতনের বর্ণনা দিতে দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার বর্ণনা শুনে কাজিপুর থানার ওসি শ্যামল দত্তও মর্মাহত হয়ে পড়েন। এ সময় তার চোখেও জল গড়াতে দেখা যায়। তিনি দ্রুত তার কক্ষে নিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করেন।
পরে তিনি নগদ অর্থ ও একটি শাড়ি সহায়তা দিয়ে মাধ্যমে বাড়ি পৌঁছে দেন বৃদ্ধাকে। বৃদ্ধার ছেলে ও ছেলের স্ত্রীকে সতর্ক করে দেন ওসি।
বৃদ্ধা ছেবাতন বেওয়া জানান, ১৫ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। সেই থেকে ছেলে ও পুত্রবধূর আশ্রয়েই আছেন। তারা এক বেলা খেতে দিলে খাবার জোটে না দিলে জোটে না। খেতে চাইলে নেমে আসে তার ওপর ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর অত্যাচার।
তিনি বলেন, মানুষের জাকাতের শাড়িতে তিনি সারা বছর লজ্জা নিবারণ করেন। দু’বেলা পেট ভরে খাবার জোটে না। ফলে দিন দিন ক্ষুধার জ্বালায় নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। ডাক্তার দেখানো তো দূরের কথা ওষুধ কিনতে চাইলে নেমে আসে ছেলে আর তার স্ত্রীর নির্যাতন। আর শুনতে হয় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ।
তিনি বলেন, ‘অথচ এ সন্তান জন্মের পর খুব খুশি হয়েছিলাম। আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলাম এই ভেবে যে,এ সন্তান বড় হলে আমাদের সংসারে আর অভাব দুঃখ-দুর্দশা থাকবে না। শেষ বয়সে ছেলের সংসারে সুখে দিন কাটাতে পারব। কপাল মন্দ তাই সে স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। এখন আমার দিন কাটে ছেলে ও ছেলের বউয়ের লাথি-গুঁতো খেয়ে। বয়সের ভারে হাটতে পাড়ি না। তার পরও ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে বেঁচে থাকার তাগিদে নিরুপায় হয়ে লাঠিতে ভর দিয়ে থানায় হাজির হয়েছি’।
কাজিপুর থানার ওসি শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, ওই বৃদ্ধা লাঠিতে ভর দিয়ে থানা চত্বরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার কান্না শুনে আমি নিজেই আমার অফিস কক্ষ ছেড়ে বাইরে চলে আসি। তারপর বৃদ্ধার ওপর ছেলে ও তার স্ত্রীর অত্যাচার-নির্যাতনের বর্ণনা শুনে নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। এ সময় তিনি ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করছিলেন। দ্রুত তাকে আমার অফিস কক্ষে নিয়ে যাই। সেখানে তিনি খাবার পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ও তৃপ্তির খান। তার এ খুশি ও তৃপ্তির হাসি ভোলার নয়। পরে বৃদ্ধা ছেবাতনকে একটি শাড়ি ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে পুলিশের একটি টিমের সাহায্যে বাড়ি পাঠিয়ে দিই। পুলিশের ওই টিমের মাধ্যমে বৃদ্ধা ছেবাতন বেওয়ার ছেলে ও তার স্ত্রীকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
