অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর ৩০% হৃদরোগে

আপডেট : ২৯ মে ২০২২, ০২:০৪ এএম

দেশে প্রতি বছর অসংক্রামক ব্যাধিতে মারা যাচ্ছেন ৫ লাখ ৭২ হাজার ৬শ মানুষ। তাদের মধ্যে হৃদরোগে মারা যান ৩০ শতাংশ বা ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮০ জন। এমনকি দেশের ৩৫ বছরের কমবয়সী নারী ও পুরুষের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি উন্নত বিশ্বের সমবয়সী মানুষের তুলনায় ১৭ গুণ বেশি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কার্ডিওলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ কার্ডিওভাস্কুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণায় এসব তথ্য জানা গেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, হৃদরোগের বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। ভৌগোলিক কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলদেশ, ভারতসহ এ অঞ্চলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন হলে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ কার্ডিওভাস্কুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (বিসিআরএফ) আয়োজিত হার্ট ক্যাম্প ও ‘হৃদরোগ প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক আলোচনায় এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কার্ডিওভাস্কুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. এস এম মোস্তফা জামান প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বীমা চালু করা জরুরি। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা না দিতে পারায় অনেক সময় রাস্তায় মৃত্যুবরণ করেন। তাই হৃদরোগের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো শহর বা বিভাগকেন্দ্রিক না হয়ে জেলা শহরে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়া উচিত। এতে এসব অঞ্চলের লোকজন দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা পাবে এবং মৃত্যুর হার অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হৃদরোগ চিকিৎসা সহজলভ্য এবং এর ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বুকে ব্যথা হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উপদেশ দেন।

মূল প্রবন্ধে হৃদরোগ প্রতিরোধের পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান বলেন, হৃদরোগ চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ সহজ। প্রতিটি নাগরিকের হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ তৈরিতে কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এখন হৃদরোগের শতভাগ চিকিৎসা সম্ভব। ধূমপান, সাদাপাতা, জর্দা এবং চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহার করতে হবে। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি এবং ব্যায়াম করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হৃদরোগ থেকে বাঁচতে হলে এর প্রতিকার সম্পর্কে জানা জরুরি। ধূমপানের মতো মাদকও হৃদরোগের আরেকটি কারণ। মাদককে না বলতে হবে। অযথা দুশ্চিন্তা করা যাবে না। নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। মাঝে মাঝে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খেতে হবে।

গবেষণায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, হৃদরোগ বিশ্বের সবচেয়ে এক নম্বর ঘাতক ব্যাধি। অসংক্রামক ব্যাধির মধ্যে হৃদরোগই বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধানতম কারণ। সারা বিশ্বে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ এই অসংক্রামক ব্যাধি। পৃথিবীতে প্রতি বছর অসংক্রামক রোগে মারা যাচ্ছেন প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে হৃদরোগে মারা যাচ্ছেন ১ কোটি ৭৯ লাখ মানুষ।

গবেষণায় হৃদরোগের কারণ হিসেবে অতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার আধিক্য, ডায়াবেটিস, স্থুলতা, অলস জীবনযাপন বা শারীরিক কায়িক পরিশ্রম না করা বা ব্যায়াম না করা, ধূমপান ও বংশগত কারণ উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, উপকমিটির স্বাস্থ্য ও সদস্য কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক বখতিয়ার রানা, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসান হাফিজ, যুগ্ম সম্পাদক মাঈনুল আলম ও আশরাফ আলী, কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরীসহ ক্লাবের সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হার্ট ক্যাম্পে ব্লাড প্রেসার পরিমাপ, রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপ, লিপিড প্রোফাইল ও ইসিজি পরীক্ষাসহ চিকিৎসাবিষয়ক নানা পরামর্শ দেওয়া হয়। ল্যাব এইডের সহযোগিতায় এসময় তিন শতাধিক সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত