অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে এটা একরকম সামুদ্রিক ঘাসযার ইংরেজি নাম রিবন উইড এবং সহজ বাংলা নাম ফিতা ঘাস। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রতলদেশে এই ঘাসের বিশাল তৃণভূমির সন্ধান পান তারা। আশ্চর্যের বিষয় আপাতত সমুদ্রতলে একে তৃণভূমি মনে হলেও ফিতা ঘাসের গোটা তৃণভূমিটা আসলে একটিমাত্র উদ্ভিদ!
ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার গবেষক দলের তথ্যমতে, মাত্র একটি বীজ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বছরে এই বিরাট উদ্ভিদের বিস্তৃতি ঘটেছে। উদ্ভিদটি প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত! মানে হচ্ছে একটি উদ্ভিদের বিস্তৃতির আয়তন ২০ হাজার ফুটবল মাঠের সমান!
অস্ট্রেলিয়ার পার্থ এলাকার ৮০০ কিলোমিটার উত্তরের শার্ক বে নামের সামুদ্রিক এলাকায় অনেকটা যেন আকস্মিকভাবেই এই বিশাল উদ্ভিদের সন্ধান পায় গবেষক দলটি।
শুরুতে তারা ভেবেছিলেন আলাদা আলাদা সামুদ্রিক ঘাসের তৃণভূমি এটা। বিস্তারিত জানতে ঘাসগুলো থেকে ১৮ হাজার জেনেটিক নমুনা সংগ্রহ করেন তারা। জানার চেষ্টা করা হয় কতগুলো উদ্ভিদ নিয়ে এই সামুদ্রিক
তৃণভূমি গড়ে উঠেছে। এরপর যে ফল তারা পেলেন তাতে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছিলেন গবেষকরা। কারণ তারা জানতে পারেন বিশাল এই তৃণভূমি আসলে একটি মাত্র উদ্ভিদ!
গবেষক দলের প্রধান জেন এডগেলো জানান, আমরা অবাক হয়ে যাই, কারণ আমরা আবিষ্কার করি শার্ক বে-তে মাত্র একটি উদ্ভিদ ১৮০ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে আছে! আর এটাই এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় উদ্ভিদ।
একটিমাত্র উদ্ভিদ তাও আবার ঘাস! তবে বেশ সহনশীল এবং টিকে থাকার শক্তি রাখে জানিয়ে আরেক গবেষক এলিজাবেথ সিনক্লেয়ার বলেন, ‘উদ্ভিদটি বৈচিত্র্যপূর্ণ তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং উচ্চ আলোর মধ্যেও টিকে আছে। অন্যান্য উদ্ভিদের জন্য এমন পরিবেশে টিকে থাকা কঠিন।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন উদ্ভিদটির বৃদ্ধির হার বছরে ৩৫ সেন্টিমিটার। এ থেকেই তাদের ধারণা, উদ্ভিদটির আজকের এই বিশাল আকার নিতে সময় লেগেছে আনুমানিক ৪ হাজার ৫০০ বছর।
