তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে ১০ মাসে গঠন করা হয় ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)। এ তহবিলটি গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে পুঁজিবাজারকে সহায়তা করা। কিন্তু একাধিকবার সময় দেওয়া হলেও তহবিলটিতে অধিকাংশ কোম্পানি অবণ্টিত বোনাস শেয়ার ও টাকা জমা দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিদিন সুদ আরোপসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
গত ৩১ মে তহবিলটিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অবণ্টিত নগদ ও বোনাস লভ্যাংশ জমা দেওয়ার শেষ দিন পার হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে পড়ে থাকা অবণ্টিত বোনাস শেয়ার ও অর্থ মিলিয়ে ৮ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা রয়েছে, যার পুরোটাই সিএমএসএফে জমা হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৯ দশমিক ১৫৫ শতাংশ সমমূল্যের শেয়ার ও অর্থ জমা পড়েছে, যা দিয়ে পুঁজিবাজারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
এসইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অবণ্টিত লভ্যাংশের বোনাস শেয়ার কমিশনের নির্দেশে ফ্রিজ করা আছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো চাইলেই তা বিক্রি করতে পারে। তাই এসব শেয়ার ব্লক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের অনুমোদন ছাড়া এসব শেয়ার যাতে বিক্রি করা না যায়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারদের অবণ্টিত এসব শেয়ার ও অর্থ সিএমএসএফে জমা না দেবে, ততদিন এসব শেয়ার ও অর্থের বাজারমূল্যের ওপর কোম্পানিগুলোকে প্রতিদিন সুদ গুনতে হবে। তহবিলে শেয়ার ও অর্থ হস্তান্তরে ৭ কার্য দিবসের সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে এসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুঁজিবাজারকে সহায়তা দিতে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের তহবিল গঠন করেছে। আমরা তহবিল গঠন করলেও কোম্পানিগুলো থেকে অবণ্টিত লভ্যাংশের শেয়ার ও অর্থ জমা পড়ছে না। একটি অশুভ চক্র আছে, যারা বিভিন্ন সময় কোম্পানিতে পড়ে থাকা শেয়ারহোল্ডারদের অবণ্টিত লভ্যাংশের শেয়ার ও টাকা অপব্যবহার করেছে। হয়তো আত্মসাৎও করেছে। যেসব কোম্পানি নির্ধারিত সময়ে শেয়ার ও অর্থ জমা দেয়নি সেসব কোম্পানিকে ওই সম্পদের বিপরীতে প্রতিদিন সুদ গুনতে হবে। এছাড়া অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
সিএমএসএফ জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত ৬০৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশের মধ্যে সিএমএসএফে ৪৬০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বা ৭৬ শতাংশ জমা হয়েছে। কিন্তু ৮ হাজার ১০৭ কোটি ৬ লাখ টাকার বোনাস শেয়ারের মধ্যে মাত্র জমা পড়েছে ৩৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বা ৪ শতাংশ। বর্তমানে পুঁজিবাজারে ১৭২ কোম্পানিতে ১৪৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার নগদ অবণ্টিত লভ্যাংশ পড়ে রয়েছে। এছাড়া ২২৬ কোম্পানিতে ৭ হাজার ৭৬৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা মূল্যের ১৯০ কোটি ২২ লাখ বোনাস শেয়ার রয়েছে। অর্থাৎ নগদ ও বোনাসসহ এখনো ৭ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকার অবণ্টিত লভ্যাংশ কোম্পানিগুলোর কাছে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অবণ্টিত বোনাস শেয়ার পড়ে রয়েছে ব্যাংকগুলোর কাছে। তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২৭টি সিএমএসএফে কোনো বোনাস শেয়ার জমা দেয়নি। এই খাতে ১২৮ কোটি ৪৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৮টি বা ৭১ দশমিক ৫৫ শতাংশ অবণ্টিত বোনাস শেয়ার রয়েছে। এরপরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ২৮ হাজার ১৮৫টি বা ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার রয়েছে আর্থিক খাতের ১১ কোম্পানির কাছে। আর পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের দুই কোম্পানির কাছে রয়েছে ১০ কোটি ৭১ লাখ ১৬ হাজার ৭৮২টি বা ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ অবণ্টিত বোনাস শেয়ার।
