নীলফামারী সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংযোজিত হলো একটি কার্ডিয়াক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স। এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই হাসপাতালে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সোমবার (৬ জুন) দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নীলফামারী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর।
এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, এ অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সংবলিত অ্যাম্বুলেন্সটি যেন জেলার গরীব কার্ডিয়াক রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক ডা. জহিরুল কবির, নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম শাহ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুর রহীম, প্রশাসনের কর্মকর্তা, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার, রাজনীতিবিদ।
এ ছাড়া জেনারেল হাসপাতালের একটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্য ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা প্রদান করে চারটি স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
তারা প্রত্যেকে এক লাখ করে মোট ৪ লাখ টাকা দেন। তারা হলেন আজিজুল হক ,আহসানুল হক মিলন, সামছুল হক ও সামিউল ইসলাম শাওন ।
জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক কার্ডিয়াক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সটির সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে বলেন, জটিল হৃদরোগীদের স্থানান্তরে অ্যাম্বুলেন্সটি অনেক সহায়ক হবে। বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাকের পর অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর বা ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠাতে হয়। কিন্তু দেখা যায় প্রয়োজনীয় অক্সিজনের অভাবে অনেক ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনের রোগী রাস্তায় মারা যান। এ অ্যাম্বুলেন্সে আছে হার্টরেইট পালস পেশার মনিটরিং ব্যবস্থা, হাইফ্লো অক্সিজেন, সাকিনসহ আরো অনেক মেডিকেল ইকুইপমেন্ট যা দিয়ে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রোগীকে যেকোনো হাসপাতালে স্থানান্তর সম্ভব। এ অ্যাম্বুলেন্সে এসব রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ বাংলাদেশ সফরে আসেন। তখন স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারকে ১০৯টি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ভারত সরকার এই অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে প্রেরণ করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি দেওয়া হয়েছে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালকে।
