সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ভারী বর্ষণে টিলা ধসে একই পরিবারের দুই নারী, এক শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পূর্বসাতজনি গ্রামে টিলা ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরিবারের আরও আটজন আহত হন।
নিহতরা হলেন পূর্বসাতজনি গ্রামের জুবায়ের আহমদ (৩৫), জুবায়েরের স্ত্রী সুমি বেগম (৩০) ও তাদের ছেলে সাফি আহমদ (৫) এবং জুবায়েরের ভাই রফিক আহমদের স্ত্রী শামীমা বেগম (৪৮)।
স্থানীয়রা জানান, চিকনাগুল ইউনিয়নের পূর্বসাতজনি গ্রামে টিলার ওপরে এবং টিলার পাদদেশে ঘর তৈরি করে ১০-১২টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। জুবায়েরদের পরিবারও টিলার পাদদেশে আধাপাকা ঘর তৈরি করে থাকত। কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতে টিলা ধসের ঝুঁকি বাড়ছিল। রবিবার রাত থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাতের পর গতকাল সোমবার ভোর ৫টার দিকে টিলা ধসে মাটি ও গাছপালা জুবায়েরদের ঘরকে চাপা দেয়। আশপাশের লোকজন টিলা ধসের শব্দ ও কান্নাকাটি শুনে এগিয়ে আসে।
জুবায়েরের প্রতিবেশী ইমরান আহমদ জানান, তিনি প্রথমে টিলা ধসের ঘটনাটি টের পান। ওই সময় গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে টিলা ধসের ঘটনা জানিয়ে সবাইকে দ্রুত ওই বাড়িতে গিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে যান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রতিবেশী ইমরান আহমদ বলেন, ‘ভোরে ঘুম ভেঙে গেলে দরজা খুলে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ শোঁ শোঁ শব্দ শুনতে পাই। তাকিয়ে দেখি টিলা ধসে পড়েছে জুবায়েরদের বাড়ির ওপর। তখন আমি আমার অন্য ভাইদের ডেকে ঘুম থেকে তুলে দৌড়ে ওই বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা তিন ভাই মিলে প্রথমে জুবায়েরের বাবা আবদুল করিম ও তার স্ত্রী খয়রুননেছাকে উদ্ধার করি। এরপর গ্রামের আরও লোকজন আসে। সবাই মিলে ওই পরিবারের আটজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করি। চারজনকে মৃত অবস্থায় পাই।’
মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বৃদ্ধ আবদুল করিমসহ পরিবারের বেঁচে থাকা অন্য সদস্যরা। মর্মান্তিক ঘটনা দেখে সেখানে কেউই চোখের পানি আটকাতে পারছেন না।
সিলেট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে উদ্ধারকাজ চালায়। পুলিশ সদস্য ও গ্রামের লোকজনও উদ্ধার কাজে যোগ দেয়।
জৈন্তাপুর থানার ওসি গোলাম দস্তগীর আহমেদ জানান, নিহত চারজনের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ওই পরিবারকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পরে ওই পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
