দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর পরিষ্কার হচ্ছে সীতাকুণ্ডের লাল দিঘি

আপডেট : ০৯ জুন ২০২২, ০৮:২৬ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী লাল দিঘির দূষিত পানি থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধের কারণে পার্শ্ববর্তী এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছিল না। বিষয়টি নিয়ে সীতাকুণ্ড উন্নয়ন আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইজারাদারকে বারবার জানানোর পরও তিনি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন না।

এ নিয়ে বুধবার দেশ রূপান্তর অনলাইন ও ডিজিটালে ‘লাল দিঘির দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা’ শিরোনামে একটি সংবাদ পরিবেশিত হয়। খবর প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার দিঘি থেকে ময়লা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন ইজারাদার।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিনজন শ্রমিক পুকুর থেকে ময়লা একটি নৌকায় উঠিয়ে পাড়ে তুলে রাখছেন। শ্রমিকেরা জানান, সব ময়লা উঠিয়ে পরবর্তীতে তারা ময়লাগুলা ধ্বংস করবেন। এরপর পানি পরিষ্কার করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটাবেন।

image

প্রসঙ্গত, দুই মাস ধরে তীব্র দুর্গন্ধের কারণে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করতে পারছিল না। এক হাতে নাক চেপে ধরে অন্য হাতে লিখত কেউ কেউ। শিক্ষার্থীদের অনেকে দুর্গন্ধে প্রায়ই বমিও করত।

বুধবার সরেজমিনে বিদ্যালয়য়ে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের স্কুলে এগিয়ে দিতে আসা অন্তত ৫০জন অভিভাবক এই প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, শ্বাস কষ্ট, হাঁপানির মতো নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের সন্তানেরা। দুর্গন্ধের ভয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না অনেক শিশু শিক্ষার্থী। জোর করে আনতে হয় তাদের। বিদ্যালয়ে আসার পর প্রতিদিন কয়েকবার বমি করছে শিশুরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন সেদিন বলেন, ইজারাদারকে বারবার বলার পরও তিনি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ থেকে বর্তমানে ৬৫ ভাগে নেমে এসেছে। আমি মেয়র ও ইউএনও মহোদয়কেও বলেছি। তাঁরাও ইজারাদারকে পুকুর ব্যবহার উপযোগী করতে বলেছেন। কিন্তু তিনি কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা দেশ রূপান্তরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত