সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন এখনো পুরোপুরি নেভেনি। থরে থরে সাজানো কনটেইনারের ফাঁকে ফাঁকে এখনো আগুন জ¦লছে ধিকিধিকি করে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট এখনো আগুন নেভানোর কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার কারণে টানা কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। এর মধ্যেই সেনাসদস্যরা অনেকটা অনানুষ্ঠানিকভাবে ডিপো ছেড়ে গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কোনো সেনাসদস্যদের দেখা যায়নি। তবে ডিপোর কিছুসংখ্যক কর্মচারীকে প্রবেশমুখের সিকিউরিটি পয়েন্টে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ডিপোতে কাজে যোগদান করতে দেখা গেছে।
এদিকে বিএম ডিপোর বিস্ফোরণে দগ্ধ চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অনেকের চোখে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তথা চোখে ছানি পড়া বা অন্ধত্বের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এমএ আজিজ।
গত শনিবার ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর এই প্রথম ডিপোর লোকজন কাজে যোগ দিয়েছেন। গতকাল সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অন্তত ৬০ জন কর্মচারীকে কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে। ডিপোতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি সাংবাদিকদের। তবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সীমানা প্রাচীরের ফোকর দিয়ে এ প্রতিবেদকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বেশ কিছু সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিক ডিপোর ভেতরে গিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
গতকাল দুপুর ১২টা নাগাদ তৈরি পোশাক বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বিএম কনটেইনার ডিপো পরিদর্শনে যান। এ সময় প্রতিনিধিদলটি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে অক্ষত একটি শেডে রক্ষিত রপ্তানিমুখী পণ্যের হাল অবস্থা দেখে বেরিয়ে আসে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগুনের মাঝে একটিমাত্র শেড অক্ষত অবস্থায় ছিল। অন্যসব শেড ও খোলা জায়গায় রাখা কনটেইনার, যন্ত্রপাতি, ডেলিভারি সরঞ্জামাদি, পরিবহন ক্যারিয়ার সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অক্ষত শেডে খুব বেশি রপ্তানি গার্মেন্টস পণ্য নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন প্রচেষ্টা হলো কীভাবে দ্রুততম সময়ে পণ্য ডেলিভারি ও রপ্তানি করা যায়। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এ ব্যাপারে ডিপো কর্র্তৃপক্ষকে বলেছি, শিগগিরই ডিপোর দাপ্তরিক কাজকর্ম শুরু করতে।’
এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএম ডিপোতে কতসংখ্যক আমদানি ও রপ্তানি গার্মেন্টস পণ্যের কনটেইনার এবং কার্টন ছিল সেই তথ্য ও পরিসংখ্যান জানা নেই। আমরা এ বিষয়ে জানতে একটি সার্কুলার (বিজ্ঞপ্তি) জারি করেছিলাম। তাতে ১৩০টি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান বিএম ডিপোতে রাখা তাদের মালামালের তথ্য দিয়েছে। আরও অনেকের তথ্য পাওয়া বাকি আছে।’
অগ্নিদগ্ধরা দীর্ঘমেয়াদি চোখের সমস্যায় : সীতাকুণ্ডের অগ্নিদগ্ধরা সবাই দীর্ঘমেয়াদি চোখের সমস্যায় ভুগবেন বলে বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এমনকি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড থেকে এ বিস্ফোরণ হওয়ায় দগ্ধদের মধ্যে অনেককে অন্ধত্ব বরণ করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সীতাকু-ে বিস্ফোরণের ঘটনায় ভর্তি থাকা রোগীদের দেখতে ঢাকা থেকে আসা চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব ডা. এমএ আজিজ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘বিস্ফোরণে আহত ঢাকা ও চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন ৬৩ জন রোগীকে দেখেছি। তারা প্রাথমিক অবস্থায় সেরে উঠলেও বেশিরভাগ রোগীই চোখের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় ভুগবেন। তাদের অবশ্যই নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকতে হবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় অনেকের চোখে ছানি, এমনকি অন্ধত্বও বরণ করতে হতে পারে।’
