গণফোরাম সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেছেন, জনগণের স্বার্থে বাজেট প্রণয়ন হয়নি। জনজীবনের মান উন্নয়নের কোন পরিকল্পনা বা দিক নির্দেশনা নেই। মানুষের মৌলিক চাহিদা গুরুত্ব পায়নি বরঞ্চ অর্থ পাচারকারী, ঋণ নির্ভর, চোর-লুটেরা-দুর্নীতিবাজ চক্রের বাজেট প্রস্তাবিত হয়েছে। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের এ বাজেট পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখ্যান করছে গণফোরাম।
আজ সকাল ১১টায় গণফোরাম সভাপতির সভাপতিত্বে তার নিজ কার্যালয়ে গণফোরাম নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তফা মোহসীন মন্টু আরও বলেন, শহর ও গ্রামের মানুষের বৈষম্য বাড়বে, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোন উদ্যোগ নেই, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়, কৃষক-শ্রমিক বরাবরের মতোই উপেক্ষিত। আমলা নির্ভর এ বাজেট জনগণের জন্য শুভঙ্করের ফাঁকি।
গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন, যে রাষ্ট্রে নীতি নৈতিকতা ও ন্যায্যতা থাকে না সে রাষ্ট্রে কর্তৃত্ববাদী শাসকদের পদতলে জনগণ নিষ্পেষিত বঞ্চিত ও শোষিত হতে বাধ্য। এই বাজেট তারই উৎকৃষ্ট প্রমাণ। যে রাষ্ট্র জন প্রশাসনের নামে আমলাদের প্রভুত্ব কায়েম করা হয় সে রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভঙ্গুর হতে বাধ্য। এ বাজেট ভঙ্গুর রাষ্ট্র ব্যবস্থায় লুটেরাদের স্বার্থে প্রণীত জনকল্যাণে নয়।
গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশ মুদ্রাস্ফীতির ভয়ংকর চাপ ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি থাকা স্বত্ত্বেও সে সমস্যা উত্তরণে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির অসহনীয় মূল্য সহনীয় করে জনজীবনে স্বস্তির পরিবর্তে আরও মূল্যবৃদ্ধি করার সম্ভাবনা থাকায় জনতার জীবনযাত্রার মান বিপর্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় অথবা মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি থেকে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি জন বিচ্ছিন্ন সরকার।
নেতৃবৃন্দের আলোচনায় সংবিধান, আইন, আইনের শাসনকে লণ্ডভণ্ড করে কর্তৃত্ববাদী শাসন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে কর্পোরেট ও লুটেরা সিন্ডিকেট কে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা দৃশ্যমান হয়েছে এ বাজেটে।
গণফোরাম বিশ্বাস করে রাতের ভোটে ক্ষমতা দখল করা অনির্বাচিত অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার আমলা, লুটেরা ও শোষক ধনীক শ্রেণির সুবিধার্থে মেগা প্রকল্প নির্ভর মহা দুর্নীতি-লুটপাটের বাজেট প্রস্তাবিত হয়েছে সেখানে জনগণের ভাগে আছে মাকাল ফল।
আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি এ.কে.এম. জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোহসীন রশিদ, মহিউদ্দীন আবদুল কাদের ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক।
