আর বাকি মাত্র ১০ দিন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রথমবারের মতো গতকাল মঙ্গলবার পদ্মা সেতু জুড়ে উচ্ছ্বসিত মানুষ দেখল আলোর ঝিলিক। একসঙ্গে সেতুতে জ্বলে উঠল ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্ট। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সবকটি ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বলে উঠতেই সেতুর অন্যরকম রূপ দেখা গেল।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেতুর মাওয়া প্রান্তের ২০৭টি ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বলে উঠেছিল। গত ৪ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে পর্যায়ক্রমে সেতুর সবকটি বাতি জ্বালানো হয়। পরীক্ষামূলক জেনারেটরের মাধ্যমে এসব বাতি জ্বালানো হয়। তবে মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুতের দেওয়া বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে এই প্রথম সেতুর বুকে আলোর ঝিলিক দেখতে পেয়েছেন এপার-ওপারের মানুষ।
একসঙ্গে সবকটি ল্যাম্পপোস্টে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর বিষয় নিশ্চিত করেন, পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের। তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে জেনারেটরের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সেতুর সবকটি বাতি জ্বালানো হয়েছিল। তবে পল্লী বিদ্যুতের বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে মূল সেতুর ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্টের সবকটি বাতি জ্বালানো হলো এই প্রথম।
সেতুর বুকে আলো দেখতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের পদ্মাতীরের মাওয়া গ্রামের শরীফুল ইসলাম সনজিব। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় সেতুতে আলো জ্বলে ওঠার দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। আর তা স্বচক্ষে দেখা এক অভূতপূর্ব মুহূর্তই বলব আমি। এমন মুহূর্ত কখনো ভুলতে পারব না। সেতুর বুকে আলোর ঝিলিক দেখতে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে ১২ বছরের শিশু মো. নাহিদ। বাবার সঙ্গে দাঁড়িয়ে সেতুর অদূর থেকে ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বলে ওঠার দৃশ্য দেখতে পেয়েছে ওই শিশু। নাহিদ বলেন, আমার ভালো লাগছে। সেতুর আলোতে ভরে গেছে পদ্মার জলরাশি। আলোতে চোখ জুড়িয়ে গেছে আমার।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ এ সেতুর বুকে বিদ্যুৎ বাতি রয়েছে ৪১৫টি। আর দু’পাশের সংযোগ সড়কে রয়েছে আরও ২০০টি বিদ্যুৎ বাতি। গেল বছরের ২৫ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে প্রথম ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল এসব ল্যাম্পপোস্ট বসানো ও এর মধ্যে বাতি লাগানোর কাজ শেষ হয়। এরপর পুরো সেতুতে কেবল টানা হয়েছে। গেল ২৪ মে প্রথমে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সেতুতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেতু কর্র্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা প্রান্তে ৪২ নম্বর পিয়ারে এ বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শেষ হয়। এরপর মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিও সেতুতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করে। সর্বসাকুল্যে ৩০ মে প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ শেষ করে মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
