প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে বেয়াই বাড়ির রাস্তা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ১২:২৮ এএম

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছকেল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের নারী শ্রমিকদের দিয়ে মেয়ের শ^শুরবাড়িতে যাতায়াতের ব্যক্তিগত রাস্তার কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মানিকনগর ডিসি রাস্তা থেকে ইছামতী নদীর পাড়ের তোতা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত’ এবং ‘মান্নানের বাড়ি থেকে কাশেমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা  মেরামত’ প্রকল্পের জন্য অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ৪৮ জন নারী শ্রমিক নিয়োগ করা হয়।

কিন্তু সেখান থেকে ইউপি সদস্য ছকেল বিশ্বাস কৌশলে ১৫-২০ জন নারী শ্রমিক নিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বকচর গ্রামের আজমত বিশ্বাসের বাড়ির ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের কাজ করান। আজমত বিশ্বাস ইউপি সদস্য ছকেল বিশ্বাসের মেয়ের শ্বশুর। এ নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়েছে।

গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বকচর গ্রামে সরকারি রাস্তার সঙ্গে আজমত বিশ্বাসের বাড়ির সংযোগ সড়কের প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৭ ফুট প্রস্থের মাটির নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, সরকারি প্রকল্পের নারী শ্রমিক দিয়ে মেম্বার সাহেব তার বিয়াই বাড়ির রাস্তা কীভাবে নির্মাণ করেন? ওয়ার্ডে সরকারি অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ ভাঙাচোরা রাস্তা রয়েছে, সেগুলো সংস্কার না করে তিনি অবৈধভাবে নিজের আত্মীয় বাড়ির রাস্তার কাজ করিয়েছেন।

আজমত বিশ্বাসের প্রতিবেশী সরকারি একটি রাস্তা দেখিয়ে বলেন, এই দেখেন এই রাস্তাটি কত জায়গায় ভাঙা! এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করে। এ রাস্তা  মেরামত না করে সরকারি শ্রমিক দিয়ে বিয়াই বাড়ির ব্যক্তিগত রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন  মেম্বার।

ইউপি সদস্যের বেয়াই আজমত বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হ্যাঁ, মেম্বার সাহেব আমার বেয়াই। তিনি আমার বড় ছেলের শ^শুর। এই রাস্তাটি তিনিই করে দিয়েছেন। রাস্তাটি আগেরই করা। কিন্তু নিচু ছিল। অনেক জায়গায় ভেঙেও গিয়েছিল। ৮-৯ দিন আগে ৭-৮ জন নারী শ্রমিক তিন দিন কাজ করে আমার এই রাস্তাটি করে দেয়।

এ প্রকল্পের নারী শ্রমিক বাহিরচর গ্রামের মোতালেব শিকদারের স্ত্রী নিলুফা বেগম ও একই গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী বিউটি বেগম এবং শ্রমিকদের সরদার মৃত আবুল  হোসেনের স্ত্রী বাছিয়া বেগম বলেন, এ কাজে অতিরিক্তি কোনো টাকা-পয়সা দেওয়া হয়নি আমাদের।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য ছকেল বিশ্বাস মুঠোফোনে বলেন, চেয়ারম্যানের কাছে বলেই  লোক নিয়ে বেয়াই বাড়ির রাস্তায় কাজ করেছি। রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানতাম না। যদি বেয়াই বাড়ির ব্যক্তিগত রাস্তার কাজটি করিয়ে থাকেন, তবে তিনি সেটা অন্যায় করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানিকুজ্জামান জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের তালিকানুযায়ী কাজগুলো সঠিকভাবে হয়েছে কি না তা আগে দেখা হবে। সেই সঙ্গে প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে ব্যক্তিগত রাস্তা মেরামতের বিষয়েও খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত