পটুয়াখালীর মহিপুর থানা ঘেরাওয়ের পর পুলিশের লাঠিপেটায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫জন আহত হয়েছেন। এ সময় অবস্থানকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে এক এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, এস আই হালিম, কনেস্টবল মিলন ও ওবায়দুল।
এ ছাড়া নারী কনেস্টবল শীলা ও নাসরীন আহত হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করছে। আহত তিন পুলিশ সদস্য বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যান্য আহতরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সূত্র জানায়, জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সংহিসতার মামলায় খলিল ঘরামী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের (খাজুরা) পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী জলিল ঘরামীর নেতৃত্বে শতাধিক নারী-পুরুষ থানা ভবনের গেটের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান নেন। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত থানা ভবন ঘেরাও করে তারা খলিল ঘরামীর মুক্তি দাবি করেন। এ সময় পুলিশ অবস্থানকারীদের এলাকা ত্যাগ করার অনুরোধ জানায়। পরে পুলিশ থানা ভবনের ভেতরে অবস্থানকারীদের লাঠিপেটা করে।
পুলিশে লাঠিপেটায় আ. রাজ্জাক, রাজা মিয়া, দুলাল, মনির মোল্লা, মনিরুজ্জামান, কাদের মাঝী, মিলন বেপারী, ওবায়দুল্লাহ, ইলিয়াস, রায়হান, মোসলেম, মজিদ, ইউসুফ, নারী সমর্থক বিউটি ও সাফিয়া আহত হন বলে জানা গেছে। তাদের কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত সাফিয়া বলেন, একজন নিরপরাধ লোককে থানায় ধরে নিয়ে এসেছে। এর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হিসেবে আমার ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে থানার সামনে অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে পুলিশ অতর্কিতে আমাদের লাঠিপেটা করেছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, থানা কম্পাউন্ড থেকে অবস্থানকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করলেও তারা কর্ণপাত করেনি। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে জলিল ঘরামী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
