স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১৮ জুন ২০২২, ০৯:২৭ পিএম

স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি পেশার বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য করণীয় বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা ভবনের কনফারেন্স রুমে শুক্রবার বিশিষ্ট ব্যক্তির অংশগ্রহণে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট পেশাজীবীদের সংগঠন সোসাইটি অফ স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি) ও নহর ইনিশিয়েটিভসের যৌথ উদ্যোগে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান। অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন- কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি, সহসভাপতি, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ।

সিআরপির স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনাব তাহমিনা সুলতানা বলেন, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র পেশা। যার মাধ্যমে একজন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট ব্যক্তির কথা, ভাষা, যোগাযোগ, সামাজিক দক্ষতা এবং খাবার গলধঃকরণ সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয় এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা প্রদান করেন।

আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. কাওছার বলেন ‘বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮’ এর প্রথম তফসিল অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সরকার স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, উল্লেখ্য ন্যূনতম ১ (এক) বছর বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপসহ স্নাতক প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করছেন তিনিই শুধুমাত্র স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট হিসেবে প্র্যাকটিস করতে পারবেন এবং ‘স্পিচ থেরাপিস্ট/স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন। তাই প্র্যাকটিসের জন্য তাঁদের দ্রুত লাইসেন্স প্রদান করে আইনের বাস্তবায়ন হওয়া সময়ের দাবি। প্রয়োজনে আলাদা মনিটরিং সেল চালু করে ভুয়া ও কোয়াক প্রাকটিশনারদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।  

সোসাইটি অব স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টস এর সভাপতি জনাব ফিদা আল-শামস বলেন, অভিন্ন চিকিৎসা অনুষদ, কোর্স টাইটেল, শিক্ষা কাঠামো এবং কারিকুলাম, শিক্ষার্থী ভর্তির যোগ্যতা ও ১ বছর ইন্টার্নশিপসহ পাঁচ বছর মেয়াদি কোর্স নিশ্চিত সাপেক্ষেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কোর্স চালানোর অনুমতি প্রদান করতে হবে। এ রকম করা না হলে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে এবং সর্বসাধারণের সাথে প্রতারণা চলতেই থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অত্যন্ত প্রতিবন্ধীবান্ধব। এই সরকারের আমলেই এ সংক্রান্ত অনেকগুলো আইন, নীতিমালা ও বিধি তৈরি হয়েছে। এগুলোর বাস্তবায়নে সরকারকে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা জরুরি।

একজন বিশেষ শিশুর অভিভাবক ও বেসরকারি সংস্থা গোল্ডেন কিডস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ড. শাহাদাত কবীর সেবাপ্রাপ্তিতে তার ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বলেন, অনেক সংস্থা সঠিক নিয়ম কানুন মেনে যোগ্যতাসম্পন্ন থেরাপিস্ট নিয়োগ দিচ্ছে না, যা সেবাগ্রহীতাদের সাথে একধরনের প্রতারণা। 

আলোচনায় স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি শিক্ষা, চিকিৎসা ও পেশা হিসেবে এর ব্যাপ্তিকে মূল উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরেন সিআরপির রিসার্চ ও ইভালুয়েশন অফিসার ও স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট জনাব শায়খুল হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নহর ইনিশিয়েটিভসের চিফ কমিউনিকেশন অফিসার (সিসিও) শাহেদ সেলিম। আরও উপস্থিত ছিলেন সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ডা. সাকী খন্দকার।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত