বিচারপ্রার্থী মানুষের দুরবস্থার সুযোগ নেওয়া অসততা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘আইনজীবী পুনর্মিলনী- ২০২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনবিদ ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।
আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনাদের সৎ থাকতে হবে। ফিস যদি হয় ২০ হাজার টাকা, সেটাই নেবেন। মানুষের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে ২ লাখ টাকা নেবেন না। এই যে মানুষের দুরবস্থার সুযোগ নেওয়া, এটা অসততা। বিবেকের কাছে অসততা। এটি সৃষ্টিকর্তার কাছেও অসততা। লোকজন ভাবতে পারে আপনি অসৎ। এভাবে নিলে হয়তো বাড়ি-গাড়ি করতে পারবেন, কিন্তু কোনভাবেই ওপরে উঠতে পারবেন না।’
আইনজীবীদের তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তাদের সৎ থাকতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং মামলার বিষয়বস্তু আদালতে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমরা কারও না কারও ওপর নির্ভরশীল। অন্যের সাহায্য ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। এই যে আপনি স্যুট, টাই, চশমা পড়লেন এগুলো কেউ না কেউ দিয়েছে। এখন যার কাছ থেকে নিলেন তাকে কি দিলেন? গ্রামের বাড়ি থেকে শ্যামনগর, সাতক্ষীরা হয়ে যে লোকটি বিচারের জন্য ঢাকায় আসলেন, শুধুমাত্র পয়সা বেশি দিতে পারেননি বলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবেন, তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেবেন, তাতে আপনাকে যে সৃষ্টি করেছেন তিনি কি খুশি হবেন? তাই এটা কখনো করবেন না। মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে।’
বিচারের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিচারিক আদালতে আশির দশকের মামলা এখনো বিচারাধীন আছে। যে লোকটা বিচারের জন্য ২০ বছর ৪০ বছর ধরে ঘুরছে আদালতের প্রতি তার কেন আস্থা থাকবে?’ পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিতে বিচারিক আদালতগুলোকে বিশেষ বার্তা দেওয়া হবে বলে জানান প্রধান বিচারপতি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তানিয়া আমীর প্রমুখ।
