গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে ঘাঘট নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি।
ফলে ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনা নদীবেষ্টিত গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
৬০টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ১০টিতে মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
এ ছাড়া এই চার উপজেলায় বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। তবে বরাদ্দ দেওয়া টাকায় শুকনো খাবার, পলিথিনসহ অন্যান্য উপকরণ কিনে দেওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের মধ্যে।
এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, দিন দিন পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন। বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শাখা নদীর মাধ্যমে বিলে ও লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট। ফলে যাতায়াতে মানুষদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বন্ধ করা হয়েছে বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
অপরদিকে, তিস্তা নদীর সুন্দরগঞ্জ উপজেলা, ব্রহ্মপুত্র নদের সদর উপজেলা এবং যমুনা নদীবেষ্টিত ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার অনেক এলাকা নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনকবলিত শতাধিক পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যায় ডুবে গেছে সবজি ও পাটসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। ফলে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান জানান, সোমবার বিকেল ৩টায় ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
তবে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ও করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের পানি স্থির রয়েছে।
তবে তিস্তার পানি কমলেও বাড়ছে করতোয়া নদীর পানি। যার প্রভাব পড়বে পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উপর।
