বেসরকারি ঋণ ৪০ মাসে সর্বোচ্চ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ১২:৫৮ এএম

মহামারী করোনার পর বিশ^জুড়ে সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বেসামাল অবস্থা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৪০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। গত মে মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশে। এর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এ খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করে।

বেসরকারি খাতের ঋণের চাহিদা বাড়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচামাল ও মূূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে পণ্যমূল্যও। সব মিলিয়ে আমদানি ব্যয় নিষ্পত্তিতে ঋণের চাহিদা এখন বেশি। অবশ্য চাহিদা বেশি হলেও চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তার থেকে এখনো নিচে রয়েছে। চলতি অর্থবছরে বেসরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছর জুলাই মাসে এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছিল।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, করোনার প্রকোপ কমে আসার পর বেসরকারি খাতের ঋণ টানা আট মাস ধরে বাড়ছে। ২০২২ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে ১১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে উঠেছিল। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ফেব্রুয়ারিতে এ প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে আসে। মার্চে তা দশমিক ৫৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে ওঠে। এপ্রিল মাসে তা ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশে উঠেছে। সবশেষ মে মাসে তা আরও বেড়ে প্রায় ১৩ শতাংশে উন্নীত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২১ সালের মে মাসের চেয়ে এ বছরের মে মাসে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি ঋণ পেয়েছেন। আগের মাস এপ্রিলে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। এরপর থেকেই কমতে থাকে এ সূচক। ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশের নিচে অবস্থান করেছে এতদিন। তবে এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এ সূচক।

গত ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তার আগের মাস নভেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ১১ শতাংশ; অক্টোবরে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ আর সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিনিয়োগে মন্দা চলছে। এর অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের চিত্রও ছিল হতাশাজনক। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে তা আরও কমতে থাকে। প্রতি মাসেই কমতে কমতে গত বছর মে মাসে তা ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমে আসে, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে এ খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ শতাংশের বেশি। বছরওয়ারি হিসাবে এরপর তা সবসময়ই ১০ শতাংশের বেশি ছিল। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তা দুই অঙ্কের নিচে, ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশে নেমে আসে। এরপর দুই বছর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের নিচে অবস্থান করে। গত বছর নভেম্বরে তা দুই অঙ্কের ঘরে, ১০ দশমিক ১১ শতাংশে ওঠে। ২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫১ ও ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এপ্রিলে নেমে আসে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। মে মাসে তা আরও কমে নেমে যায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত