চট্টগ্রাম বন্দর-স্লোভেনিয়া সরাসরি জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ১২:৫৯ এএম

ইতালি, ইংল্যান্ড, রোটারডেম, ডেনমার্ক, পর্তুগালের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত আরেকটি দেশ স্লোভেনিয়া ভেনিয়ার পোর্ট অব কোপার-এর সঙ্গে সরাসরি কন্টেইনার জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশে সেøাভেনিয়ান পোর্টের একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম অবস্থান করছে। তারা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান ও বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

এদিকে বিজিএমইএ নেতারা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখার স্বার্থে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি পণ্য পরিবহনের কোনো বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জাহাজজটের কারণে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়। এছাড়া বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় সেখানে কন্টেইনার স্বল্পতাও দেখা দেয়। এ অবস্থায় ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ঝামেলা এড়াতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিভিন্ন দেশে সরাসরি পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ইতালি, ইংল্যান্ড, রোটারডেম, ডেনমার্ক, পর্তুগালসহ কয়েকটি দেশে সরাসরি কন্টেইনারবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় সেøাভেনিয়ার সঙ্গে জাহাজ চলাচলের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, সেøাভেনিয়ার পোর্ট অব কপারের কমার্শিয়াল ডাইরেক্টর মিৎজা ডুস্কের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকে পোর্ট অব কপারের পরিচালক বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে তৈরি পোশাকসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য চালান বিভিন্ন ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টের মাধ্যমে রপ্তানি হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এক্ষেত্রে পণ্য পরিবহনে স্লোভেনিয়া ভেনিয়ার পোর্ট অব কোপার বন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি জাহাজ পরিচালনা করা হলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। এতে রপ্তানি বাণিজ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পূর্ব ও মধ্য ইউরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের বিশাল সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। সরাসরি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে স্লোভেনিয়া ভেনিয়ার পোর্ট অব কোপার বন্দরের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় চবক চেয়ারম্যান বলেন, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য পরিবহনে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরসমূহ পরিহারপূর্বক ইতালি, ইংল্যান্ড, রোটারডেম,  ডেনমার্ক, পর্তুগাল ইত্যাদি বন্দরসমূহে সরাসরি কন্টেইনার জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতে বিদেশি ক্রেতাদের সময় এবং খরচ অনেকাংশ হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে সেøাভেনিয়ার পোর্ট অব কোপারের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচলের উদ্যোগকে সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর সম্ভাব্য সব সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। এক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতা, শিপিং কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

এদিকে স্লোভেনিয়া ভেনিয়া থেকে আসা পোর্ট অব কপারের প্রতিনিধিদল বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কন্টেইনার জাহাজ চলাচলের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির পণ্যের ৫৫ শতাংশ ইউরোপীয় দেশসমূহে রপ্তানি হয়ে থাকে। রপ্তানি বাণিজ্যকে বহির্বিশে্ব আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরসমূহের ঝামেলা এড়িয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে সরাসরি পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। এতে মধ্য-পূর্ব ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত