‘এই পদ্মা সেতুর জন্য ৪২ শতক জমি দিছি। তয় জমির দামও পাইছি। জমি গেছে তবুও দুঃখ নাই, সরকার তো আর টাকা কম দেয় নাই। চাইলে আরও দেব। কারণ শেখের বেটি এই অঞ্চলের মানুষের নতুন উদ্যমে বাঁচার স্বপ্ন সত্যি করছে। তবে আক্ষেপ আমার যৌবনে কেন পদ্মা সেতু হইলো না!’
এভাবেই বহু কাক্সিক্ষত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ক্ষণের আগে গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সেতুটি লাগোয়া জনপদ মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ীর বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী আবদুল জব্বার হাওলাদার।
অপেক্ষার পালা শেষ। দেশের কোটি মানুষের গর্বের ও স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আজ শনিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত দেশের দীর্ঘতম এ সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সেই সঙ্গে প্রায় আট বছরের অপেক্ষার ও জল্পনা-কল্পনারও অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি এখন পদ্মা সেতুর দিকে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে তারা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন বলে অভিহিত করেন।
এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত।
সেতু উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভেতরেই অভিন্ন এক আনন্দ অনুভূতি জেগে উঠেছে। কারণ পদ্মা সেতু তাদের গর্বের ও অহংকারের। তবে এ সেতুর সরাসরি সুফলভোগী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের উৎসবের মাত্রা যেন একটু বেশিই। সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে এসব জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের অভিন্ন অনুভূতি একটাই। আর তা হলো পদ্মা সেতু করে দিয়ে শেখ হাসিনা তাদের জীবন পাল্টে দিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই অবকাঠামোর সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন তারাই। এটা তাদের আনন্দ বাড়িয়ে দেওয়ার কারণ।
সেতু উদ্বোধনের আগের দিন মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ীর আরেক বাসিন্দা শাহ আলম নিজের আনন্দ অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই দেশের জন্য এক কথায় বলা যায় যে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নাই। উন্নয়নের কথা বলতে পারলে এই দেশে নৌকার বাইরে কেউ ভোট দিত না। এই দেশের মানুষের জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বই দরকার।’
কাঁঠালবাড়ীর আরেক বাসিন্দা আবদুল হালিম বলেন, ‘তিন বিঘা জমি গেছে। বিনিময়ে শেখ হাসিনা যা দিয়েছে তার ঋণ শোধ করতে পারব না। শেখের বেটি জমি চাইলে আরও দেব। উন্নয়নের জন্য। আমরা পদ্মা সেতু পেয়েছি, উন্নয়নের আলো দেখছি। শেখ হাসিনা যা চায় তাই দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘জমি নিল তাতে কোনো দুঃখ নাই। কী নিল ভুলে গেছি। অপেক্ষা করছি এই দিনের জন্য। এক পদ্মা সেতুতেই আমরা উন্নত।’ তার কাছে পদ্মা সেতু একটা অকল্পনীয় বিষয় ছিল বলেও জানান।
তারাকান্দি ফেরিঘাট এলাকায় হকারি করে সংসার চালান ইমদাদুল মিয়া। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার কাছে একটাই আনন্দ, যখন চামু ঢাকায় যামু, এইটাই।’
স্ট্রোক করে বাম হাত ও পা খুঁড়িয়ে চলা অসহায় ইমদাদুল আরও বলেন, ‘শরীরের এক পাশ হারিয়ে আমি এখন কোনোমতে হকারি করে সংসার চালাই। যদি এই পদ্মা সেতু আরও আগে হতো ঢাকায় গিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারলে শারীরিক এ ক্ষতি হতো না। ঝড় আসলে ফেরি বন্ধ থাকে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজন তখন থেমে যেত। এখন তো সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না, এটাই আনন্দ।’
পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশেই উৎসবের আমেজকে বাড়তি রূপ দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সারা দেশের মানুষকে আড়ম্বরপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উপভোগ করার সুযোগ করে দিয়ে। তবে পদ্মা সেতুর দুই পাড়ের মানুষ ভাসছে অন্যরকম এক উচ্ছ্বাসে। দেশের বন্যাকবলিত এলাকা ছাড়া সারা দেশের মানুষ আজ চোখ রাখবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ীর ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাটে অনুষ্ঠেয় জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তই সেজেছে নতুন সাজে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় মহাসড়ক তথা ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ছেয়ে গেছে রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুনে। সড়ক-মহাসড়ক, রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড আর তোরণে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আলোকসজ্জার আয়োজনও রাখা হয়েছে।
করোনা-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি মাদারীপুরে জনসমাবেশে অংশ নেওয়ায় উচ্ছ্বসিত পদ্মাপাড়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জনসমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে বেশ কয়েক দিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাড়াও দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এ অনুষ্ঠান তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের আশা ১০ লাখেরও বেশি মানুষের জনসমাগম হবে। স্মরণকালের সেরা সমাবেশ হবে এখানে। অন্যদিকে জনসভা মাঠের নিরাপত্তা জোরদার করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করে জনসভা সফল করতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি উদ্যোগ।
জাতীয় নির্বাচনের দেড় বছর আগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ জনসভায় আগামী নির্বাচনের জন্য শেখ হাসিনা দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।
গতকাল বিকেলে শিবচরের জনসভা মঞ্চ এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। সেখানে পদ্মা সেতুর আদলেই তৈরি করা হয়েছে জনসভার মঞ্চ। মঞ্চের ঠিক সামনে পানিতে ভাসছে বিশাল আকৃতির একটি নৌকা। তার পাশে পদ্মা সেতুর আদলে ১১টি পিলারের ওপর ১০টি স্প্যান বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। দেখে মনে হবে সেতুর পাশ দিয়ে বড় একটি নৌকা চলছে। সমাবেশের দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ তৈরিসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ শেষ করতে গতকাল ব্যস্ত সময় পার করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
জেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর বাংলাবাজার ফেরিঘাট এলাকার জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জনসভাকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রায় ১৫ একর জমির ওপর ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যেখানে তৈরি করা হয়েছে ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ। নিরাপত্তার জন্য মঞ্চের ভেতরে ও বাইরে বসানো হয়েছে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার। থাকছে দেড় শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। সভাস্থলে ৫০০ অস্থায়ী শৌচাগার, ভিআইপিদের জন্য আরও ২২টি শৌচাগার, সুপেয় পানির লাইন, ৪০ শয্যার তিনটি অস্থায়ী হাসপাতাল, নারীদের বসার আলাদা ব্যবস্থা এবং প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের সভাস্থলে দূরের শ্রোতাদের জন্য ২৬টি এলইডি মনিটর ও ৫০০ মাইকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া নদীপথে আসা মানুষের জন্য ২০টি পন্টুন তৈরি করা হয়েছে। খুলনা, বরিশালসহ দক্ষিণের নৌপথ ব্যবহার করে যারা পদ্মাপাড়ের জনসভায় যোগ দেবেন তাদের জন্য তৈরি করা এসব অস্থায়ী পন্টুন।
বিশাল জনসভায় জমায়েতের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তায় থাকছে বেশ কড়াকড়ি। সভাস্থল নজরদারি করতে এবারই প্রথম ভ্রাম্যমাণ ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহার হচ্ছে। যা আনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শনে এসে পুলিশের মহাপরিদর্শক অনুরোধ জানিয়ে বলেন, করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসতে হবে জনসভাস্থলে। জনসভায় আসাদের চিকিৎসার জন্য ২১০ জন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে পৌঁছে সকাল ১০টায় সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মাওয়া প্রান্তের নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে সেতু উদ্বোধন করবেন। এরপর টোল দিয়ে গাড়িতে সেতু পার হবেন তিনি। জাজিরাপ্রান্তে এসেও পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে কাঁঠালবাড়ীর ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাটে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জেলায় জনসমাবেশ অংশ নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। করোনা-পরবর্তী সময়ে এবারই প্রথম ঢাকার বাইরে জনসভা এটি তার।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবিদুর রহমান খোকা সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের নেত্রী জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেখিয়েছেন আমরা পারি। দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষ আমরা দীর্ঘদিন অবহেলিত ও বঞ্চিত ছিলাম। আমাদের সেই বঞ্চনা আর থাকছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষার কষ্টের অবসান ঘটবে।’
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে মাদারীপুরবাসী প্রস্তুত উল্লেখ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজল কৃষ্ণ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী মাদারীপুরের শিবচরে আসবেন। জনসভায় ভাষণ দেবেন। তার আগমন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীসহ গোটা মাদারীপুরবাসীর মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে। আমরা আশা করছি স্মরণকালের বৃহৎ জনসভা হবে। আমরা সেভাবে প্রস্তুতিও নিয়েছি।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা দক্ষিণাঞ্চলের সবাই আগেভাগে এলাকায় চলে এসেছি। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগ দেব।’
এক প্রশ্নের জবাবে দলের এ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের সরকারের বড় অর্জন। দেশের জনগণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শ্রেষ্ঠ উপহার এটি। সেতু উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে আমরা বড় ধরনের জনসভা করব। আর আগামী দেড় বছর পরেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। কাজেই এ জনসভা থেকে অবশ্যই নেত্রী আমাদের নির্বাচনের বার্তা দেবেন। দেশবাসীর কাছে নিশ্চয়ই নৌকার জন্য ভোট চাইবেন।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সেতু উদ্বোধন করবেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দলীয় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক আগত মানুষের সব ধরনের সহযোগিতা ও সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’
সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জনসভায় ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। পানি থেকে শুরু করে তাদের সব ধরনের সুবিধা দিতে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। এছাড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আগামীকাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে সেতু জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। শেষ হবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট। এ সেতু দিয়েই রাজধানীর সঙ্গে সংযুক্ত হবে খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের ২১ জেলা। প্রাণ পাবে এসব অঞ্চলের অর্থনীতি। নতুন সম্ভাবনা নিয়ে নতুন যুগের সূচনা হবে বাংলাদেশে।
