স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে দুই প্রান্তে দুটি থানা করা হয়েছে। এ ছাড়া যানবাহন ও লোকজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে সেতুসহ ওই এলাকার সড়কে থাকবে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরা। থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল। তা ছাড়া সেনাবাহিনীও আলাদাভাবে মনিটরিং করবে। মাঝেমধ্য দুটি হেলিকপ্টার দিয়ে আকাশপথে টহল দিবে র্যাব।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সব ধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। উদ্ধোধনের পর সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’
র্যাব মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেতুর নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিবেন। র্যাবও আলাদাভাবে নিরাপত্তা দিবে।’ তিনি আরও বলেন, সেতুর নির্মাণ কার্যক্রম শুরুর পর সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলমান রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সব সময় ভূমিকা রাখছে। ২০১৯ সালে সেতু নির্মাণ সামগ্রী চুরির সঙ্গে জড়িত দুটি চক্রের ১০ জনকে বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রীসহ মুঞ্জীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতু ঘিরে ২০১৮ সাল থেকেই নিরাপত্তার ছক তৈরি করা হয়েছে। দুই পাশে দুটি নতুন থানা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তেই দুটি করে ইউনিয়ন এই থানা দুটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লৌহজংয়ের মাওয়া প্রান্তের থানার আওতায় থাকবে মেদেনীমন্ডল ও কুমারভোগ ইউনিয়ন। জাজিরা পয়েন্টের থানার আওতায় থাকবে পূর্ব নাওডোবা ও পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়ন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সেতু উদ্ধোধন হওয়ার পর আরো নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। সবমিলিয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে সার্বক্ষণিক। তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি থানা পুুলিশ, নৌ ও হাইওয়ে পুলিশ এবং সাদা পোষাকধারী পুলিশ থাকবে নিরাপত্তায়। ২৪ ঘন্টাই নদীতে টহল দিবে নৌ পুলিশ। তাদের জন্য চারটি অত্যাধুনিক স্পিডবোর্ড কেনা হয়েছে।
নৌ পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্ধোধনের পরও কঠোর নিরাপত্তার বলয় থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, সেতুর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে পুলিশ প্রধানের নেতৃত্বে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে। ওইসব বৈঠকে নিরাপত্তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। কিভাবে নিরাপত্তা দিতে হবে তার ছক তৈরি করা হয়। এ ছাড়া পুলিশ ও র্যাব প্রধান আলাদাভাবে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। পদ্মার দুইপাড়ে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
তারা আরো জানান, পুলিশ, র্যাব ও সেতু কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে সেতু ও আশপাশের সড়ক হাজারের বেশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। সেতুর দুই প্রান্তে সার্ভিস এরিয়া-১ ও সার্ভিস এরিয়া-২ সহ পাশর্^বর্তী এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি করেবে পুলিশ ও র্যাব। নিরাপত্তা জোরদার করতে দুই প্রান্তেই পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। টহলের পাশাপাশি নজরদারি চৌকি, তল্লাশী চৌকি ও সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে সব সময়। গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার জগতে মনিটরিংও থাকবে যাতে জঙ্গিদের নাশকতার চেষ্টা প্রতিরোধ করা যায়।
সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিটি পিলার, ল্যাম্পপোষ্ট, টিকিট কাউন্টার ও আর সেতুতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের সড়কেও আছে নজরদারি। তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেত্ নিয়ে দেশ-বিদেশে কোন অপশক্তি কাজ করছে কিনা তা নজরদারি করা হচ্ছে। অপপ্রচার ও গুজব ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও কড়া নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ইতিমধ্যে নতুন থানার কাজ শুরু হয়ে গেছে।
