এবিবির উদ্বেগ

রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতায় ব্যবসা হারাবে ব্যাংক

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ১১:২৮ পিএম

ক্রেডিট কার্ড এবং ৫ লাখ টাকা বা তার বেশি ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের আয়কর রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। ব্যাংকের কাছে ট্যাক্স রিটার্ন সনদ যাচাই করার ব্যবস্থা না থাকায় গ্রাহকের ট্যাক্স রিটার্নের নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হবে না। সব ধরনের সক্ষমতা অর্জনের পর ধীরে ধীরে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) নেতারা।

গত সোমবার এবিবির প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে লিখিতভাবে এসব দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সিএমএসএমই ঋণ, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণ ও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ড গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ লাখ টাকা বা তার অধিক ঋণ গ্রহণকারী এবং ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ব্যাংকিং খাত, বিশেষ করে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) এবং ব্যক্তিপর্যায়ের গ্রাহকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে এবিবি।

চিঠিতে তিনি বলেন, সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের একটি অসন্তুষ্টি হলো ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং জটিল একটি প্রক্রিয়া যার জন্য অনেক নথিপত্রের আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়। ব্যাংকগুলো যদি সিএমএসএমই খাতে অর্থায়নের আগে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণ দিতে বলে, তাহলে ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া জটিল ও বিলম্বিত হবে। ফলে প্রান্তিক গ্রাহকরা ঋণের জন্য ব্যাংকে আসবে না। মহাজন, কো-অপারেটিভ সোসাইটির মতো ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেবেন। যা ব্যাংকিং খাত এবং গ্রাহকের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সিএমএসএমই গ্রাহকরা এতদিন ইটিআইএন সনদ প্রদান করতেন। নতুন প্রস্তাবনার ফলে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য গ্রাহককে নিজে অথবা কোনো ট্যাক্স কনসালট্যান্টের মাধ্যমে রিটার্ন ফরম পূরণ করে জমা দিয়ে যথাযথ রসিদ পেতে হবে। সম্পদ ঘোষণার জটিলতা, ট্যাক্স রিটার্ন জমাদানে দীর্ঘসূত্রতা এবং সেগুলো যাচাইকরণের প্রয়োজনীয়তার কারণে ব্যাংকের পক্ষে এ ধরনের গ্রাহকদের আর্থিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে করে সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে যাবে। সিএমএসএমই ঋণের সিংহভাগ প্রত্যন্ত গ্রামের উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এদের পক্ষে ট্যাক্স রিটার্ন ফরম পূরণ করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ।

সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ড প্রদান করছে। ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করার আগে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ইটিআইএনের তথ্য নিশ্চিত করছে। বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক লেনদেন এবং ফি ও চার্জ, ভ্যাটের আওতাভুক্ত। ট্যাক্স রিটার্নের প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলে, ট্যাক্সমুক্ত গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ড দেওয়া না গেলে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন এবিবি প্রেসিডেন্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত