বিদায়ী অর্থবছরে রেমিট্যান্স ১৫ শতাংশ কমেছে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২২, ১১:১৮ পিএম

বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কভিড পরবর্তী সময়ে হুন্ডি বেড়ে যাওয়ায় বিদায়ী অর্থবছরে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম রেমিট্যান্স পেয়েছে দেশ। গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা এর আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।

বিদায়ী অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে রেমিট্যান্সের নগদ প্রণোদনা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসবে বলে আশা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে সেই লক্ষ্য থেকে ৫০০ কোটি ডলার পিছিয়ে রয়েছে রেমিট্যান্স।

এর কারণ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সারা বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এ-কারণে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সোয়া এক কোটি প্রবাসীর খরচও বেড়েছে। তাছাড়া গত দুই তিন মাস ধরে খোলাবাজারে ডলারের দর ব্যাংকের দরের থেকে বেশি ছিল। ফলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছিল।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্বরিত পদক্ষেপে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ডলারের দর এবং খোলাবাজারের ডলারের দর প্রায় কাছাকাছি চলে আসে। বর্তমানে আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ৯৩ দশমিক ৪৫ টাকা। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রি করছে ৯৩ দশমিক ৫০ টাকা। নগদ ডলার বিক্রি করছে ৯৭ টাকা। এর কিছু দিন আগে খোলাবাজারে ডলারের দর ১০০ টাকা উঠে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগের মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। আর আগের বছরের জুন মাসে রেমিট্যান্স ১৯৪ কোটি ৮ লাখ ডলার। সেই হিসাবে সব শেষ মাসে রেমিট্যান্স কমেছে আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং আগের বছরের জুন মাসের তুলনায় কমেছে ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এমনকি কোরবানির ঈদের প্রভাব পড়েনি রেমিট্যান্সে। অন্যান্য বছর কোরবানির আগে স্বজনদের কাছে বেশি করে টাকা পাঠাতেন প্রবাসীরা। যাতে তাদের স্বজনরা পশু কোরবানি করতে পারে। অবশ্য সদ্যবিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির ধারা নিম্নমুখী ছিল।

অথচ করোনাভাইরাস সৃষ্ট দুর্যোগের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে অর্থনীতির প্রতিটি সূচক বিধ্বস্ত হলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ চাঙ্গা ছিল।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে ১৮৭ কোটি ডলার, আগস্টে ১৮১ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি, অক্টোবর ১৬৪ কোটি, নভেম্বর ১৫৩ কোটি, ডিসেম্বরে ১৬৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান প্রবাসীরা। জানুয়ারিতে ১৭০ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১৪৯ কোটি ডলার, মার্চে আসে ১৮৬ কোটি ডলার। এপ্রিলে ২০১ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, একক মাসের হিসাবে যা ছিল বিদায়ী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি। মে মাসে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার দেশে এসেছে। অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ১৮৩ কোটি ৭৩ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এভাবে রেমিট্যান্স কমতে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমতে থাকে। কেননা আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির চাপ ছিল। বর্তমানে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৪ হাজার ১৮০ কোটি ডলার। যা গত বছরের আগস্টে ছিল ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি ঘোষণার অনুষ্ঠানে বিদায়ী গভর্নর ফজলে কবির বলেছিলেন, আমদানিজনিত চাহিদার কারণে ব্যাংকগুলোকে ৭৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার সরবরাহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগের বছর প্রায় একই পরিমাণ ডলার ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ফলে বাজারে এই পরিবর্তনের বড় ধরনের প্রভাব নেই। এদিকে চলতি সপ্তাহেই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ২০০ কোটি ডলারের বেশি আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে। তখন রিজার্ভ ৪ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত