সয়াবিনের দামে রাইস ব্র্যান তেল বিক্রি করবে টিসিবি

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২২, ০৬:৩৫ এএম

সয়াবিন তেলের দামে (প্রতি লিটার ১১০ টাকা) রাইস ব্র্যান তেল বিক্রি করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ। প্রথম পর্যায়ে আজ সোমবার থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বিক্রি হলেও পরবর্তীকালে সারা দেশেই রাইস ব্র্যান তেল বিক্রি করবে টিসিবি।

ভোজ্য তেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে ও দেশি পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভালো জিনিস (রাইস ব্র্যান তেল) বিদেশে রপ্তানি করে খারাপ জিনিস (সয়াবিন তেল) আমদানি করে খাচ্ছি। আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি ভালো জিনিস খাওয়ার অভ্যাস করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, ১৭৫ টাকা দরে এসিআইর কাছ থেকে ১ লাখ লিটার, রশিদ অ্যাগ্রোর কাছ থেকে ৩ লাখ লিটার, যুমনার কাছ থেকে ১ লাখ লিটার ও বাংলাদেশ এডিবল অয়েল মিলস থেকে ২ লাখসহ মোট ৭ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান তেল কিনেছে টিসিবি। ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করা হবে ১১০ টাকা লিটার। টিসিবির ডিলারের কাছ থেকে মাসে একজন ভোক্তা ২ লিটার রাইস ব্র্যান তেল কিনতে পারবেন।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিপণন সংস্থাটি চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) বিক্রয় কার্যক্রমের অধীনে এসব রাইস ব্র্যান তেল বিক্রি করবে। গত অর্থবছরেই টিসিবি এই ভোজ্য তেল বিক্রি করার পরিকল্পনা করলেও ক্রয়সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কারণে পিছিয়ে গেছে। এর আগে সয়াবিন তেল সংগ্রহে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিলে বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে ভোজ্য তেল বিক্রিতে বৈচিত্র্য আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার।

সারা বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবি চিনি, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল এবং ছোলা ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করে। দেশে ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক মূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অধিক ব্যবহৃত সয়াবিন এবং পাম তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে রাইস ব্র্যান তেল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৌশলপত্র তৈরি করছে।

ভোজ্য তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৪ মে রাইস ব্র্যান অয়েল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও দেশের বাজারে তেলের চাহিদা কম থাকায় পরবর্তী সময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। মন্ত্রণালয় গত ২৯ জুন একটি সার্কুলার জারি করে জানায়, রাইস ব্র্যান তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং উৎপাদনকারীরা ১ জুলাই থেকে রাইস ব্র্যান তেল রপ্তানি করতে পারছে।

বাংলাদেশ রাইস ব্র্যান অয়েল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশে এই তেল উৎপাদনের ১৭টি কারখানা রয়েছে। এগুলোর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১৬ লাখ ৩০ হাজার টন। কাঁচামাল অর্থাৎ ধানের তুষের জোগান কম থাকায় তারা বছরে আট লাখ টন অপরিশোধিত রাইস ব্র্যান তেল উৎপাদন করে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে রাইস ব্র্যান তেলের চাহিদা নেই বললেই চলে। প্রতি মাসে মাত্র ৮০০ টন পরিশোধিত রাইস ব্র্যান অয়েল দেশের বাজারে বিক্রি হয়। বাকি অপরিশোধিত তেল বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

সূত্র জানিয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ ১০ মাসে অপরিশোধিত রাইস ব্র্যান তেল রপ্তানি করে দেশটি ১৭৫ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। রমজান মাসের চাহিদা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টন। স্থানীয় উৎপাদন হয় ২ লাখ ৩ হাজার টন। আমদানি করা হয় ১৮ লাখ টন। অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় প্রায় ৫ লাখ টন। এছাড়া ২৪ লাখ টন সয়াবিন বীজ আমদানি করা হয়, সেখান থেকে ৪ লাখ টন অপরিশোধিত তেল হয়। অপরিশোধিত পাম তেল আমদানি করা প্রায় ১১ লাখ টন।

ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে বিশ্বজুড়ে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে তাদের পক্ষে ভোজ্য তেলের মোট স্থানীয় চাহিদার ১০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন উৎপাদনকারীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত