‘সম্মানহানির ভয়ে চলচ্চিত্রের অভিভাবকেরা সামনে আসতে পারছেন না’

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২২, ০৭:২৬ পিএম

নতুন সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন নির্মাতা মুশফিকুর রহমান গুলজার। সাম্প্রতিক কাজ ও ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।

সাম্প্রতিক ব্যস্ততা কি নিয়ে?

এই সময়ে ‘টুঙ্গি পাড়ার দুঃসাহসী সিনেমার পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। এই ছবিটা শেষ করে অন্য কাজ ধরব, সেগুলোও ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিচ্ছি। তবে অন্য কাজ নিয়ে এখনই কিছু বলছি না।

'টুঙ্গিপাড়ার দু:সাহসী খোকা’ সিনেমার কাজ কত দূর এগিয়েছে?

সিনেমাটির শুটিং শেষ করে ফেলেছি। এখন এডিটিং চলছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের একটি অংশকে এই সিনেমায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন মাসুম রেজা। এডিটিং শেষ করেই ছবিটি মুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবো।

সিনেমার দুরবস্থা দূর হবে কবে?

করোনার কারণে দর্শকেরা হল বিমুখ হয়ে গিয়েছিল। অনেক দিন পর আবারও সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, হলগুলো খুলছে। তবে এখনো দর্শক সেভাবে হলে যাচ্ছে না। এটা হুট করে কিছু হবে না। আরও সময়  নিতে হবে। দর্শককে হলে যাওয়ার জন্য আকর্ষণ তৈরি করাতে হবে। ছবির কাস্টিং, মেকিং, সবকিছু মিলিয়েই ছবিগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। সেটা করতে ইন্ডাস্ট্রির আরও সময় লাগবে। এর আগে দর্শক খুব একটা যাবে না বলেই মনে হয়।

সিনেমা সংশ্লিষ্টরা ইদানীং নেতিবাচক প্রচারণা বেশি করছেন। এটা সিনেমার প্রচারণায় কতটা সুফল বয়ে আনছে?

অনেকেই সিনেমার প্রচারের ক্ষেত্রে নেতিবাচক কার্যক্রমের আশ্রয় নিচ্ছে। এটা আসলে ঠিক করছে না। যারা এই সব করছে তাদের এটা করা কাম্য নয়। যারা এসব করছে তাদের উদ্দেশ্যে বলব, তারা যেন এমন প্রচারণা থেকে বিরত থাকে। কোটি কোটি টাকা খরচ করার পর একজন শিল্পী তৈরি হয়। প্রযোজক পরিচালক থেকে শুরু করে প্রোডাকশন বয় পর্যন্ত সবার শ্রমে গড়ে উঠে একজন শিল্পী। হঠাৎ করে শিল্পীকে নিয়ে বদনাম তৈরি করা ঠিক না। এটা থেকে সবাইকে বিরত থাকা উচিত।

অনেকেই বলছেন বর্তমান চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি অভিভাবক শূন্য, আপনিও কি তাই মনে করেন?

না। ইন্ডাস্ট্রি অভিভাবক শূন্য নয়, ইন্ডাস্ট্রিতে অভিভাবক আছেন। কিন্তু সম্মানহানির ভয়ে চলচ্চিত্রের অভিভাবকেরা সামনে আসতে পারছেন না। বিশেষ করে চলচ্চিত্রের যে প্রধান সংগঠন- প্রযোজক সমিতি, দীর্ঘদিন ধরে প্রযোজক সমিতির নির্বাচন হচ্ছে না। দীর্ঘকাল ধরে একটা কুচক্রীমহল এটাকে অচল করে রেখেছে। এটার জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রির। এখন যারা আছে তাদের সব অপচেষ্টা বাদ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এখনো অনেক অভিভাবক আছেন কিন্তু অভিভাবকেরা আত্ম সম্মানের ভয়ে সামনে আসতে পারছেন না। সেটাই হওয়া উচিত। শুধু সিনিয়র নয় জুনিয়রদেরও আত্মসম্মান আছে। আমি মনে করি সবাইকে নোংরামি বাদ দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ইতিবাচক কাজ করা উচিত। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত