বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর

পানি শোধনাগার স্থাপনের কাজ পেল তিন চীনা প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২২, ১২:৪৬ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ৫ কোটি লিটার সক্ষমতার পানি শোধনাগার স্থাপনের কাজ পেয়েছে যৌথভাবে তিন চীনা প্রতিষ্ঠান জেডএইচইসি-বিওডব্লিউ-এসএমইডিআরআইসি জেভি। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের বর্তমান চাহিদা বিবেচনা করে বিনিয়োগকারীদের প্রতিদিন ৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহের জন্য একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও সরবরাহ লাইন নির্মাণে গতকাল বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চীনের তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

পানি শোধনাগার এ প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ মাস এবং চুক্তিমূল্য প্রায় ৪৩৯ কোটি টাকা। বেজার পক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন পানি শোধনাগার স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. হেলাল আহমেদ এবং জেডএইচইসি-বিওডব্লিউ-এসএমইডিআরআইসি যৌথ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী বাংলাদেশে বিশেষ প্রতিনিধি ঝাং লিলেই। এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। এসময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পানি সরবরাহে বেজার পক্ষে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)।

দেশের প্রথম পরিকল্পিত শিল্প নগর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকু- উপজেলা এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় প্রায় ৩৩ হাজার একর জমির ওপর গড়ে উঠছে। এ বিশাল শিল্প নগর সম্পূর্ণরূপে উৎপাদনক্ষম হলে দৈনিক পানির চাহিদা হবে প্রায় ১০১ কোটি লিটার।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের বিনিয়োগকারীদের পানির কোনো সমস্যা হবে না এবং বেজা পানি সরবরাহে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশ না করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে স্বল্পকালীন পানির চাহিদা মেটানোর জন্য ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে সারফেস ওয়াটার ব্যবহার করা হবে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ৫ কোটি লিটার সক্ষমতার পানি শোধনাগার স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। তিনি বলেন, শিল্প নগরের পানির চাহিদা পূরণে চাঁদপুর সংলগ্ন মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি উত্তোলনের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী শিগগিরই ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরের মাধ্যমে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইতিমধ্যে এখানে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এ বছরের মধ্যে উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বেজার সমন্বয়ের ফলে নির্মিত হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর সংযোগকারী ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘শেখ হাসিনা সরণি’, বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘিরে ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা বাঁধ বা সুপারডাইক, গ্যাস সংযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ। এছাড়াও ২১২ একর জমিতে ‘শেখ হাসিনা সরোবর’ নামে কৃত্রিম জলাধার নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বেজা জানায়, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এই শিল্প নগরের বিভিন্ন শ্রেণির আবাসিক এলাকায় কর্মীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা ছাড়াও সর্বসাধারণের বসবাসের জন্য আবাসিক এলাকা নির্মাণ করা হবে। শিল্প নগরে বাণিজ্যিক এলাকা, নগর কেন্দ্র, বিজনেস হাব, মিশ্র বাণিজ্যিক-আবাসিক এলাকা, প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা থাকবে। পুনর্বাসন, বিনোদন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসুবিধা প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা, একটি সমুদ্র বন্দর ও সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক এলাকা, উন্মুক্ত এলাকা, ম্যানগ্রোভ, পার্ক, মাঠ ও জলাশয়ের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা রাখা হয়েছে। বিনোদনের জন্য থাকবে মাঠ, হোটেল, রিসোর্ট, গলফ কোর্স, ওয়াটার পার্ক, সিনেমা ইত্যাদি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত