বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যবহার হবে ভারতীয় রুপি। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) সম্প্রতি তাদের স্থানীয় মুদ্রাকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে চালু করেছে। এতে বিদেশি ব্যবসায়ীদের মুদ্রাবিনিময় সংক্রান্ত ঝুঁকি কমবে এবং রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন চালু রাখা সহজ হবে। তাছাড়া ভারতীয় রুপি বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যবহার হওয়ায় মার্কিন ডলারের চাহিদাও কমে আসবে। খবর দি টাইমস অফ ইন্ডিয়ার।
গত সোমবার আরবিআই এই সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন এই কাঠামোতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হারে আমদানি-রপ্তানি করতে পারবে। আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত লেনদেন রুপিতে পরিশোধের জন্য একটি অতিরিক্ত চুক্তি করতে হবে। তাতে ডলারের বাজারমূল্যকে ভিত্তি ধরে রুপিতে লেনদেনের কথা উল্লেখ থাকবে।
শুরুতে ভারতের সঙ্গে যে সব দেশের বাণিজ্য বেশি তারা রুপিতে লেনদেন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ, আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এবং রাশিয়া। এদের সঙ্গে রুপিতে লেনদেন করতে পারলে ডলারের ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা বহুলাংশে কমে যাবে। ভারত বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে।
ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল চেয়ারম্যান মহেশ দেশায় বলেন, ‘বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে ডলারে আমদানি-রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় দেশটির সঙ্গে লেনদেন সংক্রান্ত জটিলতায় রয়েছে ভারত। রুপিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে চালু করার বিষয়ে আরবিআই’র এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন সহজ হবে। তাছাড়া বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হারের অস্থিতিশীলতাও কমে আসবে। বিশেষ করে ইউরো ও রুপির মধ্যে বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা কমে আসবে। রুপির শতভাগ আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতির এটাই প্রথম পদক্ষেপ।’
জানা গেছে, রাশিয়ায় ওষুধ ও খাদ্যপণ্য রপ্তানির ওপরে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ভারতের রপ্তানিকারকরা এ ধরনের পণ্য রপ্তানির বিল সংগ্রহ করতে নতুন কোনো পরিশোধ পদ্ধতির অপেক্ষা করছিল।
রাশিয়ার কোনো ব্যবসায়ী যদি রুপিতে পণ্যমূল্য সংগ্রহ বা পরিশোধ করতে চায় তাহলে সেদেশে চালু থাকা কোনো বিদেশি ব্যাংকে একটি বিশেষ ভস্ট্র হিসাব খুলতে হবে। ওই হিসাবে জমা হওয়া রুপি দিয়ে অন্য রপ্তানিকারকদের পণ্যমূল্য পরিশোধ করা যাবে যদি তারা রুপি দিয়ে ব্যবসা করতে রাজি থাকে।
ভারত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য তার মুদ্রাকে প্রস্তুত করায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে। ভারত রাশিয়া থেকে ইউক্রেন যুদ্ধপূর্ব দামের প্রায় অর্ধেক দামে তেল কিনছে। যে সব পণ্য রাশিয়া আগে ইউরোপ থেকে কিনত সে সব পণ্য এখন তারা ভারত থেকে কিনতে শুরু করেছে। রাশিয়ায় তাদের রপ্তানি বেড়ে যাচ্ছে হু হু করে। এই বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যে ডলারের কোনো ভূমিকা থাকছে না। লেনদেন হবে রুপি-রুবলে। ভারত থেকে কেনা পণ্যের দাম রাশিয়া দেবে রুপিতে। রাশিয়া থেকে কেনা পণ্যের দাম ভারত দেবে রুবলে। এর মধ্যে ডলার এবং সুইফট সিস্টেমের কোনো ভূমিকা থাকছে না।
তেল ও গ্যাসের দাম রুবলে পরিশোধ করতে রাশিয়া ইতিমধ্যেই ইউরোপিয়ান দেশগুলোকে বাধ্য করেছে। চীন ও রাশিয়া আগে থেকে তাদের যার যার মুদ্রায় লেনদেন চালিয়ে আসছিল। রুবল-রুপিতে লেনদেন পূর্ণমাত্রায় চালু হলে চীন অন্যান্য দেশের সঙ্গেও চীনা মুদ্রায় লেনদেন বাড়াবে।
