ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী নেতা তথা দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষস্থানে রয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ রাজনীতিবিদ বরিস জনসনের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে থাকা কনজারভেটিভ পার্টি বা টোরি দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ব্রিটেনের সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক পেয়েছেন ৮৮ ভোট। আর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনি পান ১০১ ভোট। দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোটাভুটি শেষে লড়াইয়ে টিকে আছেন পাঁচজন। তারা টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেবেন। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই হবে ঋষি সুনাক, পেনি মর্ডান্ট ও লিজ ট্রাসের মাঝে।
বর্তমান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী পেনি মর্ডান্ট প্রথম রাউন্ডের ভোটাভুটিতে পেয়েছেন ৬৭ ভোট, দ্বিতীয় রাউন্ডে ৮৩ ভোট আর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকা লিজ ট্রাস প্রথম দফায় ৫০ এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৪ ভোট পেয়েছেন।
প্রথম রাউন্ডের ভোটাভুটির পর পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে গেছেন দুই প্রার্থী। তারা হলেন অর্থমন্ত্রী নাদিম জাহাউই এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। প্রথম রাউন্ডেই জাহাউইর ছিটকে যাওয়া বেশ বিস্ময়ের। অনেকেই ইরানি বংশোদ্ভূত এ রাজনীতিককে সুনাকের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করছিলেন।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ভোটাভুটিতে জাহাউই এবং হান্টÑ কেউই ন্যূনতম ৩০ ভোট পাননি। এর ফলে প্রথম রাউন্ডের পর পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রইলেন ঋষি সুনাকসহ মোট ছয়জন প্রার্থী। আগের দিনই ছিটকে গিয়েছিলেন আরও তিন প্রার্থী। কনজারভেটিভ পার্টির ৩৫৮ জন এমপি ভোট দিয়েছেন।
প্রথম দফার ভোটের ফল প্রকাশের পরই জেরেমি হান্ট জানিয়ে দেন, তিনি এবার ঋষি সুনাককেই সমর্থন করবেন। হান্ট বলেছেন, ‘ঋষি খুবই ভদ্র এবং তিনি সোজাসুজি কথা বলেন, নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ সততা নিয়ে কাজ করেন। তাই ঋষি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হলে আমি গর্বিত বোধ করব।’
বরিস জনসন সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। মূলত ‘পার্টিগেট’ থেকে শুরু হয়েছিল জনসন সরকারের ভাবমূর্তির পতন। ব্রিটেনে কঠোর কভিড লকডাউন চলাকালে সরকারি বাসভবনে মদের পার্টি বসানো নিয়ে দলের মধ্যেই অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হয়েছিলেন বরিস। এরপর থেকে একের পর এক কেলেঙ্কারিতে জড়ায় জনসন সরকার। কনজারভেটিভ পার্টির ডেপুটি চিফ হুইপ ক্রিস পিনচারের যৌন কেলেঙ্কারি কফিনে শেষ পেরেক মেরে দেয়। ঘটনা জেনেও প্রথম থেকে তা অস্বীকার করেন বরিস। পরে তার মিথ্যাচার ধরা পড়ে। এরপরই জনসন সরকারের অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ঋষি সুনাক। যার সূত্র ধরে একের পর এক সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ইস্তফা দেন এবং বরিস জনসনও পদ ছাড়তে বাধ্য হন।
