বন্যার্তদের সহায়তা

বিশ্বব্যাংকের ঋণ ৪৭০০ কোটি টাকা জাতিসংঘের অনুদান ৪৭ কোটি

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২২, ১১:৫৯ পিএম

গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন প্রায় ৫০ লাখ মানুষ। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা স্মরণকালের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। উত্তরের কিছু জেলায়ও আশঙ্কাজনক বন্যা পরিস্থিতি। এ বন্যা মোকাবিলা ও পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ৫০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। অন্যদিকে জাতিসংঘ ৫০ লাখ ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।

ডলারপ্রতি ৯৪ টাকা ধরলে বাংলাদেশি মুদ্রায় বিশ^ব্যাংকের ৫০ কোটি ডলারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় চার হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এছাড়া, বিশ^ব্যাংকের ৫০ লাখ ডলারের অনুদানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৭ কোটি টাকায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের এ ঋণে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১৪ উপজেলার ১ দশমিক ২৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন। বন্যাপ্রবণ জেলায় অভ্যন্তরীণ বন্যার বিরুদ্ধে দুর্যোগ প্রস্তুতির উন্নতিতেও এ ঋণ ব্যবহার করা হবে।  ‘রেজিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অব অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি রিডাকশন’ প্রকল্পের আওতায় এ ঋণ ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৫০০টির বেশি বহুমুখী বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, অ্যাকসেস রাস্তা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে নদী ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

স্বাভাবিক সময়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এসব অবকাঠামোতে সৌরশক্তি ব্যবস্থা, পানি, স্যানিটেশন এবং নানান স্বাস্থ্য সুবিধা থাকবে। নারী ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে। প্রকল্পটি বন্যার প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া এবং আচরণগত পরিবর্তনের পদক্ষেপে সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা জোরদারে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি, অপ্রত্যাশিত বন্যা এবং তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশকে বন্যাপ্রবণ এলাকায় দুর্যোগ প্রস্তুতির উন্নতিতে সাহায্য করবে প্রকল্পটি। এটি দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া থেকে একটি দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে দেশের রূপান্তরকেও সহায়তা করবে।’

বিশ্বব্যাংকের দৃষ্টিতে, বাংলাদেশ একটি নিম্নাঞ্চলীয় ব-দ্বীপ। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বন্যার মাত্রা ও তীব্রতা বাড়ছে। প্রতিবছর বন্যা এবং নদীভাঙনে প্রায় এক মিলিয়ন মানুষকে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের বন্যাদুর্গত মানুষদের জন্য ৫০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় জরুরি সাড়াদান তহবিল (সিইআএফ) থেকে দেওয়া হচ্ছে এই সহায়তা।

এর আগে জাতিসংঘের মানবিকতা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক মার্টিন গ্রিফিথসের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দের ঘোষণা আসে। জাতিসংঘের ঢাকা দলের তত্ত্বাবধানে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ তহবিল সংগ্রহের আবেদনের ভিত্তিতে আসবে এই অর্থ।

ওই আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এবারের বন্যায় ৭২ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষের মানবিক সহায়তার জন্য আনুমানিক ৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার প্রয়োজন।

ওই আবেদনের আওতায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের তহবিল সংগ্রহ হওয়ার কথা বৃহস্পতিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসের নেতৃত্বে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদল এরই মধ্যে সিলেট অঞ্চল ঘুরে এসেছেন। জাতিসংঘের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সহায়তা কার্যক্রমে সরকারকে সহায়তা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য, সুপেয় পানি, নগদ অর্থ, জরুরি ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, হাইজিন কিটসহ বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে জাতিসংঘ।

ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, ইউএনএইচসিআর এবং আইওএমসহ বিভিন্ন সংস্থার পৃথক সহায়তা কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত